আইপিসির বিশ্লেষণ
তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে দেড় কোটি মানুষ

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ডিসেম্বর নাগাদ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আসন্ন সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থা দ্য ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্ল্যাসিফিকেশনের (আইপিসি) সর্বশেষ প্রকাশিত বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ঢাকায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) যৌথভাবে এই তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাবিষয়ক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
আইপিসির বিশ্লেষণের বরাতে জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় পরিচালিত রিলিফওয়েবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ তথা ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যা আইসিপির ফেজ-৩ পর্যায় বেশি বিবেচিত। তাদের মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ জরুরি অবস্থার মুখোমুখি, যা আইপিসির ফেজ-৪ হিসাবে বিবেচিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এ সময় তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জরুরি অবস্থার মুখে পড়তে পারে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের নেতৃত্বে এই কর্মশালায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওড় অঞ্চল, কয়েকটি উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে বসবাসরত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সর্বোচ্চ মাত্রা শনাক্ত করেছে আইপিসি।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এ বিষয়ে বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের সক্ষমতা বাড়াতে নীতিনির্ধারণ ও বিনিয়োগে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবহারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইপিসির এই ফলাফল আরও কার্যকরভাবে সম্পদ বরাদ্দ করতে এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার যৌথ প্রচেষ্টা জোরদার করতে সহায়তা করবে।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিকূল জলবায়ু, বন্যা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এসব কারণে আরও লাখো মানুষের পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য কেনার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি বলেন, ‘প্রতিবেদনের ফলাফল দেখিয়েছে বিশেষ করে বারবার বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার সহনশীলতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।’
ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও বাংলাদেশে কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, আইপিসি বিশ্লেষণের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো, কোনো সংকটের প্রভাব গভীর হওয়ার আগেই এটি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে শনাক্ত করতে সহায়তা করে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এর অংশীদাররা তাৎক্ষণিক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলা, ভবিষ্যতের দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ভোরের আকাশ/ইউএম