ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের আনন্দে উদযাপিত দুর্গাপূজা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিনির্ভর তদারকির কারণে এ বছর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার, গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আগের বছরগুলোতে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা দেখা গেছে। তবে এবার ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল অ্যাপ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তৃণমূল থেকে বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য নাশকতার কয়েকটি পরিকল্পনা আগেই শনাক্ত করে নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। আগামী বছরগুলোতেও এ ধরনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবার সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবকে আরও আনন্দমুখর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি বরাদ্দ বাড়িয়ে এ বছর ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপের জন্য চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাপ্তাহিক ছুটিসহ এ বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করেছেন। এর মধ্যে তিন দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এসব উদ্যোগ সম্প্রীতিময় ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার খেয়াঘাটসংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক একটি ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের কিছু সদস্য টহলরত পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হন বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের সাজেকে সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একাধিক ক্ষুদ্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান।
শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়াসহ স্থানীয় নেতারা রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন বলেও জানান তিনি।
পূজার ছুটিতে একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৮৫ জনকে সাজা দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে তাঁকে ইতিমধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিভাগীয় মামলাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
বিদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা ও তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইন ও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশকে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলেও কোনো পলাতক অপরাধীকে দেশে নতুন করে অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল।
তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে আইনসভায় সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায় ও ত্রয়োদশ সংশোধনীসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল ও প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ