ছুটি টানা পাঁচ দিন
মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শুরু

বেলতলায় ঘট স্থাপন ও ষোড়শ উপাচারে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।
বছর ঘুরে দেবীর আগমনে ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উলুধ্বনি, শঙ্খনাদ, কাঁসর-ঘণ্টা ও ঢাকের বাদ্যে মুখর হয়ে ওঠে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসছেন এবং নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন স্বর্গলোকে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল দেবীপক্ষ।
এর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। তবে মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়েই শুরু হলো দুর্গোৎসবের মূল পর্ব।
মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও অন্যান্য ধর্মীয় আয়োজন ঘিরে ভক্তদের সমাগম বাড়ছে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপগুলোতে চলছে উৎসবের আয়োজন। প্রতিমা নির্মাণের শেষ মুহূর্তের কাজ, রং করা, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জা সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও আয়োজকরা। পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক আয়োজন ও ভক্তদের মিলনমেলা।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, শনিবার পালিত হবে মহাসপ্তমী। এদিন নবপত্রিকা স্নান ও পূজার প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা হবে। নয়টি উদ্ভিদকে দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয় এ আনুষ্ঠানিকতায়।
রোববার পালিত হবে মহাষ্টমী। এ দিনের অন্যতম আকর্ষণ সন্ধিপূজা, যা অষ্টমী তিথির শেষ ও নবমী তিথির শুরুর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার মহানবমীর পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। মঙ্গলবার দশমীতে ঘট ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমর্পণ হবে। এরপর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ উৎসব।
অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়: হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, অসুররাজ মহিষাসুরের অত্যাচার থেকে দেবতাদের রক্ষা করতে তাদের সম্মিলিত ঐশ্বরিক শক্তিতে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। দীর্ঘ যুদ্ধের পর দেবী মহিষাসুরকে বধ করেন। এ কারণে দুর্গাপূজা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়। পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন উৎসবকে সর্বজনীন রূপ দেয়।
মণ্ডপ ৩৩ হাজার ৮৫১টি, অনুদান বাড়ল: এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা, সরকারি অনুদান বৃদ্ধি ও ছুটি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে এবার দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবারের ছুটির সঙ্গে তা যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পূজামণ্ডপের জন্য সরকারি অনুদান চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে।
উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি পূজার আয়োজকেরাও সতর্ক রয়েছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের আনন্দের মধ্য দিয়ে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
ভোরের আকাশ/ এনউব