স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না হলে সমৃদ্ধ সমাজ গড়া সম্ভব নয়: রিজভী

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত না হলে একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি বা উন্নত সমাজ গড়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে 'ওয়ার্ল্ড ফার্মাসিস্ট ডে-২০২৬' উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। 'সোসাইটি অফ বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট' এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, যে দেশ তার নাগরিকদের উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে না, তাকে উন্নততর সমাজব্যবস্থা বলা যায় না। মানুষের সামগ্রিক জীবনধারণের মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি সরাসরি সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্যের কথা বলেছেন। সমৃদ্ধি শুধু টাকা বা রিজার্ভ বাড়ার বিষয় নয়।
মানুষের সক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় সমৃদ্ধির অন্যতম বড় সূচক হচ্ছে স্বাস্থ্য।
ফার্মাসিস্টদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, উন্নত দেশগুলোতে ফার্মাসিস্ট পেশার সঙ্গে যুক্তদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র রয়েছে। হাসপাতাল, ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশেও ফার্মাসিস্টদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি থাকা দরকার।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মাসি পড়ানো হচ্ছে। ফলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এ বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে বের হচ্ছেন। তাদের কর্মসংস্থান ও পেশাগত ভূমিকা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয়ভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন।
রিজভী বলেন, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে ফার্মাসিস্ট রাখার যে উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। রোগীকে ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন যাচাই করে উপযুক্ত ওষুধ সরবরাহের বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেন।
দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে হলে সরকারের বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের ওষুধ শিল্পকে আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
ই-হেলথ কার্ড প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড চালু হলে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। এর সঙ্গে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান ও ফার্মাসিস্টদের একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক যেমন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবেন, তেমনি উপযুক্ত ওষুধ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা থাকবে। ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে ফার্মাসিস্টদের এই ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা জরুরি।
দেশে ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, এমন বাস্তবতায় উন্নত মান ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফার্মাসিউটিক্যাল খাত গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষ করে যারা সহজে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যেতে পারেন না, তাদের জন্য ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড কার্যকর হলে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
রিজভী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে ফার্মাসিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
আলোচনা সভায় সংগঠনের আহ্বায়ক মো. জাকারিয়া হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. আবদুর রশীদ, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন (ফার্মাসিস্ট) মো. সেলিম রেজাসহ ফার্মাসিস্ট শিক্ষার্থীরা।