আবুধাবিতে রুমমেটের ছুরিকাঘাতে নিহত বাংলাদেশি যুবক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রুমমেটের ছুরিকাঘাতে পুলক নাথ নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আবুধাবির মোছাফফা এলাকায় বাংলাদেশ সময় রাত আটটা থেকে সাড়ে আট টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পুলক নাথ চট্টগ্রামের পটিয়ার জিরি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার মধুসূদন নাথের ছেলে।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, বাবা মারা যাওয়ার পর প্রায় পাঁচ বছর আগে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জীবিকার সন্ধানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান পুলক নাথ। আবুধাবির মোছাফফা এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে থাই গ্লাসের কাজ করতেন তিনি। তার উপার্জনেই চলত পরিবারের খরচ। ছোট ভাইও প্রতিবন্ধী। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আগামী শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেশে ফেরার কথা ছিল পুলকের। ছেলেকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন মা ও স্বজনেরা।
কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো না। শনিবার রাঙ্গুনিয়ায় বসবাসরত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, মাত্র ২০ দিরহাম নিয়ে বিরোধের জেরে পুলককে ছুরিকাঘাত করেছেন তার এক মিশরীয় রুমমেট। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। যে ছেলেকে বরণ করে নিতে দিন গুনছিলেন মা, সেই ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় এখন পুরো পরিবার।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে পুলকের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার মা রানী বালা দেবীর সঙ্গে। ছেলের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। রানী বালা দেবী ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাত্র ২০ দিরহাম নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর ছেলেকে ছুরিকাঘাত করেন মিশরীয় ওই রুমমেট। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর রাঙ্গুনিয়ায় বসবাসরত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তারা পুলকের মৃত্যুর খবর পান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল বড় ছেলে পুলক। ছোট ছেলেটিও প্রতিবন্ধী। পরিবারের হাল ধরেছিল সে। এখন পরিবারকে কে দেখবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। সরকারের কাছে অনুরোধ, ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করুন।
পুলকের ছোট ভাই অলক নাথও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তার ভাইয়ের কাছে মিশরীয় ওই রুমমেট ২০ দিরহাম চেয়েছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তার বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে পুলকের মৃত্যু হয়।
পুলকের বোন চুমকি দেবী বলেন, আগামী শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেশে আসার কথা ছিল ভাইয়ের। পাঁচ বছর পর বাড়ি ফিরবে, এ নিয়ে পরিবারের সবার কত আশা ছিল। এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হবে ভাই, কখনো ভাবিনি। পুরো পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর চট্টগ্রামে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ভাইয়ের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চান তারা।
এদিকে পুলকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাঁর বাড়িতে ভিড় করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা যাবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তা করা হবে।
ভোরের আকাশ/আ.র