প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব
সফরসঙ্গীদের ছেড়ে অন্য বিমানে ফেরেননি প্রধানমন্ত্রী

জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন করতে পারেনি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি ৩৭৭। এ অবস্থায় অন্য বিমানে দেশে ফেরার সুযোগ কিংবা জাপানে অবস্থানের বিকল্প থাকলেও সফরসঙ্গীদের সঙ্গে একই ফ্লাইটে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি উড়োজাহাজে ঘটতে পারে। তবে এটি বড় ধরনের কোনো ত্রুটি ছিল না। এ কারণে ফ্লাইটটির উড্ডয়ন প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বিলম্বিত হয়। উড্ডয়নের আগে পরীক্ষার সময় ত্রুটিটি শনাক্ত করা হয়। বিমানের ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা ছিল না; বাতাস নিয়ন্ত্রণ ও পাখার ওঠানামার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেটি মেরামতের পর ফ্লাইটটি উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী চাইলে অন্য বিমানে দেশে ফিরতে পারতেন, এমনকি জাপানেও অবস্থান করতে পারতেন। তবে তিনি সফরসঙ্গীদের আশ্বস্ত করেন এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একই ফ্লাইটে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সফরসঙ্গীদের সঙ্গেই দেশে ফেরেন।
ফ্লাইট বিলম্বের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ সময় সফরসঙ্গীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণীও বিশেষ করে ফ্লাইটে থাকা শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি শিশুরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারে, সেদিকেও তিনি খেয়াল রাখেন।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপস্থিতিতে বিমানের প্রকৌশল দল ও জাপানের টেকনিশিয়ানরা যৌথভাবে কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মেরামত শেষে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে ফ্লাইটটির পুশব্যাক করা হয়। পরে রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইট বিজি ৩৭৭ নিরাপদে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
ভোরের আকাশ/সু.পা