শিরোনাম
রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা নয়, এটি গভীর রাজনৈতিক ইস্যু: শামা ওবায়েদটিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে আটক ৩ জনের পরিচয় মিললরাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীমালিবাগ সিআইডি অফিসের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণবন্দরে পড়ে থাকা সাড়ে ৬ হাজার কনটেইনার ধ্বংসের উদ্যোগরাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুনশেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে: রিজভীপররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীরোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা নয়, এটি গভীর রাজনৈতিক ইস্যু: শামা ওবায়েদটিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে আটক ৩ জনের পরিচয় মিললরাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীমালিবাগ সিআইডি অফিসের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণবন্দরে পড়ে থাকা সাড়ে ৬ হাজার কনটেইনার ধ্বংসের উদ্যোগরাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুনশেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে: রিজভীপররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট

বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ ১০ বছরে তিন গুণ

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৮ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ ১০ বছরে তিন গুণ
বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ ১০ বছরে তিন গুণ

বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’ অনুযায়ী, গত ১০ বছরে (২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল) বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বকেয়া স্থিতি প্রায় তিন গুণ বেড়ে ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি (১১৩.৪৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ধরে) বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের চাপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঋণ বাড়ার পাশাপাশি আসল ও সুদ পরিশোধের ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে করে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে উল্লেখিত বাংলাদেশ সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৫ সালে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৩৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে তা ৫১ বিলিয়ন ছাড়ায়। ২০২১ সালে মোট ঋণ দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৫ সালে এসে ১১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এতে করে এক দশকে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১৯২ শতাংশ।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে দ্রুত। ২০১৫ সালে সরকারের নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৪ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারে। বেড়েছে সাড়ে সাত গুণেরও বেশি। একই সময়ে বহুপক্ষীয় ঋণ ২০ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪৫ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। বহুপক্ষীয় উৎসের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন থেকে ২২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আইএমএফের ঋণ ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৬ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ঋণ পরিশোধের বোঝা 
ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে বার্ষিক পরিশোধের খরচ বাড়ায় আর্থিক ঝুঁকি গভীর হয়েছে। ২০১৫ সালে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছিল ৩৩১ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে এই সুদের পরিমাণ প্রায় আট গুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে। আসল পরিশোধ এ সময়ে ১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ফলে ২০২৫ সালে কেবল দীর্ঘমেয়াদি ঋণের আসল ও সুদ মেটাতে বাংলাদেশকে মোট ৭ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের অনুকূলে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ ছাড় হয়েছে, তার চেয়ে আগে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে পরিশোধের অঙ্ক দ্বিগুণ। দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ বাজেটের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার সূচকগুলোতে বড় পতন ঘটেছে। ২০১৫ সালে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৭১ শতাংশের সমপরিমাণ রিজার্ভ ছিল। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৫ শতাংশে। একই সঙ্গে জাতীয় আয় এবং রপ্তানি আয়ের বিপরীতে বৈদেশিক ঋণের অনুপাতও অনেক বেড়ে গেছে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি
বিশ্বব্যাংকের ‘আন্তর্জাতিক ঋণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট বৈদেশিক ঋণ সাড়ে ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। উচ্চ সুদের হারের কারণে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ঋণ পরিশোধ কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)-ভুক্ত দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ ৮ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে আইডিএ-ভুক্ত দেশগুলোকে নতুন বেসরকারি ঋণে গড়ে ৮.২ শতাংশ এবং বন্ডে ৯.৪ শতাংশ উচ্চ সুদ দিতে হয়েছে, যা বহু দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো ২০২৫ সালে রেকর্ড ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার আসল ও সুদ পরিশোধ করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলো নতুন প্রাপ্ত অর্থায়নের চেয়ে ৪৩৬ বিলিয়ন ডলার বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। দুর্বল মার্কিন ডলারের কারণে অন্যান্য মুদ্রার ঋণ ডলারে রূপান্তরে ঋণের হিসাব আরও বড় হয়ে উঠেছে।

ভোরের আকাশ/আ.র

 

শেয়ার করুন: