‘ব্রেভ ফ্যামিলি ডে’তে উন্মোচিত হলো হ্যাপিলির স্বপ্নযাত্রা

ইট-পাথরের নগরজীবনে বাড়ছে ব্যস্ততা, অথচ কমছে মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক সুখ। এই বাস্তবতায় মানুষের জীবনযাত্রায় সুখ, নিরাপত্তা ও পারিবারিক বন্ধনকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পরিকল্পিত সুখের শহর ‘হ্যাপিলি’ (HAPPILI) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘Money Can't Buy Happiness. A City Can’—এই দর্শনকে সামনে রেখে শহরটির মহাপরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে।
গত ৩১ অক্টোবর (শনিবার) রাজধানীর ফোর্টিসের উন্মুক্ত মাঠে আয়োজিত ‘ব্রেভ ফ্যামিলি ডে ২০২৬’ (BRAVE Family Day 2026) উৎসবে এ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়।
কোচ কাঞ্চন একাডেমির আয়োজনে বর্ণাঢ্য এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো সফল উদ্যোক্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। ব্রেভ-এর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই পারিবারিক মিলনমেলায় উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ আবাসন ও পেশাদার নেটওয়ার্কিং হাব হিসেবে ‘ব্রেভ ভ্যালি’ (BRAVE Valley)-এর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের প্রথম সার্টিফায়েড হ্যাপিনেস কোচ ও বেস্টসেলার লেখক কোচ কাঞ্চনের বিশেষ সেশন। সেখানে তিনি বলেন, “ব্যবসায়িক সাফল্যের চূড়ান্ত সার্থকতা লুকিয়ে আছে একটি সুখী পরিবার ও মানসিক প্রশান্তির মধ্যে।”
আধুনিক করপোরেট জীবনে সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং একে অপরকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সামগ্রিক সামাজিক সুখ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
উৎসবে শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে ‘আঁকি আমার সুখের শহর’ ও ‘লিখি আমার সুখের শহর’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে নতুন প্রজন্মের শিশুরা তাদের কল্পনার সবুজ, নিরাপদ ও আনন্দময় শহরের ছবি ও ভাবনা তুলে ধরে। পাশাপাশি দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল পারিবারিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, করপোরেট সেশন এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
এদিকে, উদ্যোগটির সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ‘জিতাও ফাউন্ডেশন’ (Jitao Foundation)-এর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়। ‘আজ আপনি কাকে জিতিয়েছেন?’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফাউন্ডেশনটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনার পরিকল্পনা তুলে ধরে।
‘সবাই সবার হাত বাড়াই, জিতিয়ে দিয়ে জিতবো সবাই’—এই সম্মিলিত প্রত্যয় ও আশাবাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘ব্রেভ ফ্যামিলি ডে ২০২৬’। আয়োজকদের মতে, পারিবারিক বন্ধন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণকে একসূত্রে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/জেআ