শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইসলামে দত্তক সন্তানের অধিকার ও বিধান

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সন্তান মহান আল্লাহ তাআলার এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। তবে অনেক দম্পতির বিয়ের বহু বছর পার হয়ে গেলেও সন্তান লাভ সম্ভব হয় না। এই শূন্যতা পূরণের জন্য অনেকেই অন্য কারও সন্তানকে নিজের কাছে এনে লালন-পালন করতে চান, যাকে প্রচলিত ভাষায় ‘দত্তক’  বলা হয়।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সন্তান দত্তক নেওয়া কি জায়েজ? ইসলামি আইন ও পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এর স্পষ্ট এবং সঠিক ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো:

মূল শরিয়তের বিধান: লালন-পালন জায়েজ, কিন্তু ‘পিতৃত্ব’ পরিবর্তন হারাম

ইসলামে কোনো অনাথ, ইয়াতিম বা অসহায় শিশুকে নিজের কাছে এনে লালন-পালন করা, তাকে স্নেহ দেওয়া এবং তার যাবতীয় ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়া কেবল জায়েজই নয়, বরং এটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তবে প্রচলিত অর্থে ‘দত্তক’ নেওয়ার মাধ্যমে যদি মনে করা হয় যে শিশুটি তার জন্মদাতার বংশীয় পরিচয় হারিয়ে দত্তক গ্রহণকারীর আসল সন্তান হয়ে গেছে, তবে ইসলামে তা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:

“তোমরা তাদেরকে (দত্তক সন্তানদের) তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো। আল্লাহর কাছে এটিই ন্যায়সঙ্গত।” (সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৫)

ইসলামের ইতিহাসের শুরুর দিকে পালক পুত্রকে নিজের ছেলে মনে করার একটি প্রথা ছিল। কিন্তু ইসলাম এসে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে। রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজে হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা (রা.)-কে পালক পুত্র বানিয়েছিলেন, কিন্তু আয়াত নাজিল হওয়ার পর তাঁকে ‘যায়েদ ইবনে মুহাম্মাদ’ না ডেকে তাঁর আসল পিতার নাম মিলিয়ে ‘যায়েদ ইবনে হারেসা’ ডাকা শুরু হয়।

দত্তক বা পালক সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে ৩টি জরুরি ইসলামি নিয়ম:

আপনি যদি কোনো শিশুকে এনে লালন-পালন করতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই নিচের ৩টি শরিয়তি বিধান কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে:

১. আসল পিতৃপরিচয় গোপন করা যাবে না

পালক সন্তানের আকিকা, খতনা, স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট—সব জায়গায় তার আসল জন্মদাতার (পিতা-মাতা) নাম এবং বংশীয় পদবি ব্যবহার করতে হবে। দত্তক নেওয়া দম্পতি নিজেদের নাম তার বাবা-মায়ের জায়গায় লিখে নিজেদের আসল সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। এটি করলে কবিরা গুনাহ হবে।

২. পর্দার বিধান বা ‘মাহরাম’ সম্পর্ক বজায় রাখা

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা অনেকেই অবহেলা করেন। পালক সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে তার সাথে দত্তক নেওয়া পরিবারের পর্দার বিধান কার্যকর হয়।

  • ছেলে সন্তান হলে: সে বড় হওয়ার পর তার পালক মায়ের সাথে এবং ওই ঘরের অন্য বোনদের সাথে পর্দা করা ফরজ। কারণ সে বংশগতভাবে তাদের ‘মাহরাম’ নয়।
  • মেয়ে সন্তান হলে: সে বড় হওয়ার পর তার পালক বাবার সাথে এবং ওই ঘরের অন্য ভাইদের সাথে পর্দা করা ফরজ।

একটি সহজ সমাধান (দুগ্ধপান):

শিশুটির বয়স যদি দুই বছর বা তার কম হয় এবং এই সময়ের মধ্যে সে যদি পালক মায়ের বুকের দুধ পান করে (অথবা পালক মায়ের আপন বোন বা মায়ের বংশের কোনো নারীর দুধ পান করে), তবে সে ওই পরিবারের ‘দুধ-সন্তান’ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে তাদের মধ্যে স্থায়ী ‘মাহরাম’ সম্পর্ক তৈরি হবে এবং বড় হওয়ার পরও কোনো পর্দা করতে হবে না।

৩. উত্তরাধিকার বা সম্পত্তির অধিকার

ইসলামি শরিয়তের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, পালক সন্তান দত্তক নেওয়া বাবা-মায়ের সম্পত্তির অংশীদার বা ওয়ারিশ হতে পারে না। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তাদের আসল সন্তানেরা বা শরিয়ত নির্ধারিত ওয়ারিশরাই সম্পত্তি পাবেন।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ-চীন ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সরব ভারতীয় গণমাধ্যম

বিকল্প সমাধান: দত্তক নেওয়া বাবা-মা যদি চান যে তাদের মৃত্যুর পর এই সন্তানটি আর্থিক সংকটে না পড়ুক, তবে তারা জীবিত থাকা অবস্থায় তাদের সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (১/৩ অংশ) ওই সন্তানের নামে ওসিয়ত (Will) করে যেতে পারেন অথবা খুশি হয়ে জীবদ্দশাতেই কিছু সম্পত্তি তাকে ‘হেবা’ বা উপহার হিসেবে লিখে দিতে পারেন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, কোনো অসহায় বা ইয়াতিম শিশুকে ঘরে এনে মানুষের মতো মানুষ করা, তাকে শিক্ষা ও ভালোবাসা দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে একটি মহৎ ও প্রশংসনীয় ইবাদত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আমি ও ইয়াতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এভাবে (দুই আঙুল মিলিয়ে) পাশাপাশি থাকব।” তবে এই মহৎ কাজ করতে গিয়ে শিশুর আসল পিতৃপরিচয় মুছে ফেলা এবং পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা যাবে না।

ভোরের আকাশ/জেআ

ইসলামিক বিধানকোরআন হাদিসসন্তান

শেয়ার করুন: