চীনে তরমুজের ওপর পাথর রাখেন চাষিরা, কেন এই পদ্ধতি?

চীন, বিশেষ করে দেশটির শুষ্ক ও মরুভূমিবেষ্টিত অঞ্চল যেমন—নিংজিয়া এবং গানসু প্রদেশে কৃষক ও কৃষিবিদদের একটি সুপ্রাচীন ও বিজ্ঞানসম্মত ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি হলো তরমুজের গায়ে বা গোড়ায় পাথর রাখা কিংবা পাথর ছড়িয়ে তরমুজ চাষ করা। চীনের এই বিশেষ তরমুজকে বলা হয় ‘সিশা ওয়াটারমেলন’ বা ‘পাথরে জন্ম নেওয়া তরমুজ’।

বাইরে থেকে দেখতে বিষয়টি অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে অসাধারণ কিছু কৃষিবিজ্ঞান ও পরিবেশগত সুবিধা:
তরমুজে পাথর ব্যবহারের প্রধান কারণসমূহ
১. মিষ্টতা বা চিনির ঘনত্ব বৃদ্ধি: চীনের শুষ্ক অঞ্চলের কৃষকরা তরমুজ যখন বেড়ে ওঠে, তখন এর ওপরে বা পাশে মসৃণ পাথর বা নুড়িপাথর রেখে দেন। পাথরগুলো সারাদিন সূর্যের উত্তাপ শোষণ করে এবং রাতে ধীরে ধীরে সেই তাপ ছাড়ে। দিন ও রাতের এই তাপমাত্রার বড় ধরনের পার্থক্যের কারণে তরমুজের ভেতরে পানির দ্রুত প্রসারণ রোধ হয় এবং প্রাকৃতিক শর্করা বা সুগার খুব ঘন আকারে জমা হয়, যার ফলে তরমুজ অতিরিক্ত মিষ্টি হয়।
২. মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা: শুষ্ক এলাকায় মাটিতে পানির চরম অভাব থাকে। তরমুজের চারপাশের মাটিতে ছোট-বড় নূড়িপাথর ও শিলা ছড়ানো থাকলে তা মাটির আর্দ্রতাকে সরাসরি বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যেতে দেয় না। ফলে সামান্য পানি ব্যবহার করেই ফল ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
৩. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও বৃদ্ধি সচল রাখা: মরু এলাকায় রাতে অতিরিক্ত ঠান্ডা পড়ে। পাথর দিনের বেলা সূর্যের আলো শোষণ করে উত্তপ্ত হয় এবং রাতে তরমুজ গাছের গোড়ায় উষ্ণতা জোগায়, যা গাছের সঠিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৪. মাটির ক্ষয় রোধ ও কীটপতঙ্গ থেকে সুরক্ষা: নুড়িপাথর ও বড় পাথরের স্তর তীব্র বাতাসের তাণ্ডব থেকে মাটির উপরিভাগকে ধরে রাখে এবং তরমুজকে সরাসরি ভেজা বা কাদা মাটির সংস্পর্শে আসতে দেয় না, যা ফল পচা ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধ করে।
প্রকৃতির প্রতিকূল আবহাওয়াকে জয় করে উচ্চমানের মিষ্টি ও রসালো ফল ফলানোর এক চমৎকার উদাহরণ এই চৈনিক ঐতিহ্যবাহী প্রযুক্তি। পাথর ও রোদের প্রাকৃতিক মেলবন্ধন কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা এই কৌশলটি আজও চীনা কৃষিতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে আসছে।
ভোরের আকাশ/জেআ