শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঘাসফড়িং ধরার সেই দিনগুলো কি হারিয়ে যাচ্ছে?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঘাসফড়িং ধরার সেই দিনগুলো কি হারিয়ে যাচ্ছে?
ঘাসফড়িং ধরার সেই দিনগুলো কি হারিয়ে যাচ্ছে?

দুপুর গড়ালেই গ্রামের খোলা মাঠে কাঁচা ঘাসের গন্ধ, রোদের আলো-ছায়ার খেলা আর চারপাশে ছুটে চলা শিশুদের কোলাহল—একসময় এটাই ছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য। সবুজ ঘাসের আড়াল থেকে হঠাৎ লাফিয়ে বেরিয়ে আসত ছোট-বড় নানা রঙের ঘাসফড়িং। আর তাদের ধরতে শিশুদের ছোটাছুটি ছিল শৈশবের অন্যতম আনন্দ।

কখনো খালি হাতে, কখনো ছোট জাল কিংবা কাঁচের বয়াম নিয়ে ঘাসফড়িং ধরার চেষ্টা করত শিশুরা। একটি ধরতে পারলেই যেন বড় কোনো সাফল্য। কেউ সেটি নিয়ে খেলত, কেউ আবার পোষা পাখির খাবার হিসেবে বাড়িতে নিয়ে যেত। শালিকসহ বিভিন্ন পাখির খাদ্য হিসেবেও ঘাসফড়িং পরিচিত।

ঘাসফড়িং মূলত ঘাস, পাতা ও বিভিন্ন উদ্ভিদের কচি অংশ খেয়ে বেঁচে থাকে। শরীরের রং অনেক সময় আশপাশের ঘাস ও পাতার সঙ্গে মিশে যাওয়ায় তাদের সহজে দেখা যায় না। শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে এই ছদ্মবেশ প্রকৃতির দেওয়া তাদের অন্যতম কৌশল।

তবে ঘাসফড়িং শুধু শৈশবের খেলার সঙ্গী নয়, প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলেও এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পাখি, ব্যাঙ ও বিভিন্ন সরীসৃপসহ নানা প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ঘাসফড়িং ব্যবহৃত হয়। ফলে পরিবেশের খাদ্যশৃঙ্খলে এই ক্ষুদ্র পতঙ্গেরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।

শৈশবের প্রকৃতির পাঠশালা

একসময় গ্রাম ও আধা-শহরের শিশুদের শৈশব কাটত প্রকৃতির খুব কাছাকাছি। মাঠে ঘাসফড়িংয়ের পেছনে ছুটতে ছুটতে তারা প্রকৃতির নানা বৈচিত্র্য চিনত। কখনো ঘাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পতঙ্গ, কখনো রোদের আলোয় ডানার ঝিলিক, আবার কখনো মুহূর্তে লাফিয়ে দূরে চলে যাওয়া—এসব দৃশ্য শিশুদের মধ্যে কৌতূহল ও পর্যবেক্ষণের অভ্যাস তৈরি করত।

খোলা মাঠে দৌড়ঝাঁপের মধ্য দিয়ে শরীরচর্চাও হয়ে যেত। প্রকৃতির সঙ্গে এমন সরাসরি যোগাযোগ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে আনন্দের পাশাপাশি স্বাভাবিক উদ্দীপনা তৈরি করত।

বদলে গেছে সেই চেনা দৃশ্য

সময় বদলেছে। দ্রুত নগরায়ন, খেলার মাঠের সংকট ও প্রকৃতির আবাসস্থল কমে যাওয়ায় অনেক জায়গায় ঘাসফড়িংয়ের মতো ছোট পতঙ্গের দেখা আগের তুলনায় কমেছে। কৃষিজমিতে রাসায়নিক কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারও বিভিন্ন পতঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

একই সঙ্গে বদলে গেছে শিশুদের খেলাধুলার ধরন। স্মার্টফোন, ভিডিও গেম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি বাড়তে থাকা নির্ভরতার কারণে খোলা মাঠে দৌড়ঝাঁপের সুযোগ কমছে। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে শিশুদের যে সহজ সম্পর্ক একসময় তৈরি হতো, সেটিও অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

জীববৈচিত্র্যের দিক থেকেও ঘাসফড়িং গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির ঘাসফড়িং রয়েছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশে ১২৮ প্রজাতির ঘাসফড়িং তালিকাভুক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন বিরোধী প্রচারণা

সবুজ মাঠে একটি ঘাসফড়িংয়ের হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা হয়তো এখন আর আগের মতো স্বাভাবিক দৃশ্য নয়। তবু গ্রামের কোনো নিরিবিলি মাঠে বর্ষার পর সবুজ ঘাসের মধ্যে একটি ঘাসফড়িং চোখে পড়লে অনেকের মনে পড়ে যায় পুরোনো দিনের সেই শৈশব—মাঠজুড়ে ছোটাছুটি, ধরার ব্যর্থ চেষ্টা আর ছোট্ট একটি পতঙ্গকে ঘিরে নির্মল আনন্দ।

ঘাসফড়িংয়ের পেছনে ছোটাছুটি তাই শুধু একটি পুরোনো খেলার স্মৃতি নয়; এটি মুক্ত বাতাস, সবুজ প্রকৃতি ও হারিয়ে যেতে বসা এক সরল শৈশবের প্রতীক। শিশুদের প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনা ও এই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা তাই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

ভোরের আকাশ/জেআ

শেয়ার করুন: