শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস: নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব কতটা?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৭ জুন ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি:  এ,আই
ছবি: এ,আই

আজ ৭ জুন, বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস (World Food Safety Day)। জীবন ধারণের জন্য খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই, তবে সেই খাদ্য যদি অনিরাপদ বা দূষিত হয়, তবে তা জীবনের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়।

'খাদ্যের নিরাপত্তা, জীবনের সুরক্ষা'—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারও বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

সুস্থ ও সবল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে কেন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক, তা নিয়ে আজকের বিশেষ আয়োজন:

খাদ্য নিরাপত্তা দিবস কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) যৌথ উদ্যোগে ২০১৮ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের কারণে কোটি কোটি মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু। অনিরাপদ খাদ্যে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী কিংবা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান মানবদেহে ক্যানসার থেকে শুরু করে কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাই কেবল খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, সেই খাদ্য ভোক্তার পাত পর্যন্ত কতটা নিরাপদভাবে পৌঁছাচ্ছে, তা নিশ্চিত করাই এই দিবসের মূল লক্ষ্য।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে:

রাসায়নিক ও কীটনাশকের অপব্যবহার: ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে ফলমূল পাকানো এবং সংরক্ষণে অতিরিক্ত কীটনাশক, ফরমালিন বা কার্বাইডের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

ভেজাল ও কৃত্রিম রঙ: মিষ্টি, বেকারি পণ্য, গুঁড়ো মসলা বা বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারে টেক্সটাইল বা কাপড়ের ক্ষতিকর রঙ এবং নিম্নমানের উপাদান মেশানো হচ্ছে, যা লিভার ও কিডনির স্থায়ী ক্ষতি করছে।

অপরিচ্ছন্নতা ও জীবাণু সংক্রমণ: হোটেল-রেস্তোরাঁ বা স্ট্রিট ফুডের ক্ষেত্রে অপরিষ্কার পানি ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের ফলে টাইফয়েড, জন্ডিস ও ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঘটছে।

সংরক্ষণাগারের অভাব: সঠিক হিমাগার ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে অনেক সময় উৎপাদিত শস্য ও শাকসবজিতে ক্ষতিকর ফাঙ্গাস বা ছত্রাক (যেমন- এফলাটক্সিন) জন্ম নেয়, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত।

আমাদের করণীয়: খামার থেকে ভোক্তার পাত পর্যন্ত সচেতনতা

খাদ্য নিরাপদ রাখার দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয়; উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা—সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে।

১. কৃষকদের দায়িত্ব (নিরাপদ উৎপাদন)

ফসলে মাত্রারিক্ত কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কীটনাশক বা রাসায়নিক ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার আগে ফসল বা ফল বাজারজাত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রাকৃতিকভাবে জৈব সার ব্যবহারের প্রবণতা বাড়াতে হবে।

২. ব্যবসায়ী ও প্রক্রিয়াজাতকারীদের ভূমিকা

অধিক মুনাফার লোভে খাবারে ভেজাল দেওয়া বা নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ব্যবহার থেকে ব্যবসায়ীদের সরে আসতে হবে। খাদ্য আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সঠিক এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্য মজুত ও বিপণন নিশ্চিত করতে হবে।

৩. ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা (স্মার্ট রান্নাঘর)

বাজার থেকে আনা ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার বা কাটার আগে অন্তত আধঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

কাঁচা মাংস, মাছ এবং রান্না করা খাবার ফ্রিজে বা রান্নাঘরে সবসময় আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে একটির জীবাণু অন্যটিতে না ছড়ায়।

আরও পড়ুন

জাম খাওয়ার পর কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?

পচা, বাসি বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত বাইরের খাবার পরিহার করে ঘরের তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষজ্ঞের অভিমত: "নিরাপদ খাদ্য কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।" বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহ ভেজাল দমনে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও মনিটরিং জোরদার করেছে। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতাই পারে একটি সুস্থ ও ভেজালমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। আসুন, এই বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবসে আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি—নিজে সচেতন হব, ভেজালমুক্ত খাবার খাব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখব।

ভোরের আকাশ/জেআ

নিরাপদ জীবনখাদ্য ও পুষ্টিখাদ্য নিরাপত্তাহীনতাজনস্বাস্থ্যখাদ্যমানবিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস

শেয়ার করুন: