যুক্তরাষ্ট্রের দুই জাদুঘরে টাইটানিকের বরফশীতল পানির অভিজ্ঞতা

১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বরফশীতল পানিতে ডুবে যায় বিশ্বের অন্যতম আলোচিত যাত্রীবাহী জাহাজ টাইটানিক। প্রাণ বাঁচাতে অনেক যাত্রী সমুদ্রে ঝাঁপ দিলেও হিমশীতল পানিতে বেশিক্ষণ টিকে থাকা ছিল প্রায় অসম্ভব। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি দর্শনার্থীদের কিছুটা হলেও অনুভব করাতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি জাদুঘরে রাখা হয়েছে ব্যতিক্রমী আয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের পিজন ফোর্জ ও মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ব্র্যানসন শহরে অবস্থিত ‘টাইটানিক মিউজিয়াম অ্যাট্রাকশনস’-এ রয়েছে বিশেষ এই প্রদর্শনী। সেখানে একটি পাত্রে প্রবাহমান পানির তাপমাত্রা রাখা হয় প্রায় ২৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দর্শনার্থীরা চাইলে কয়েক মুহূর্তের জন্য ওই পানিতে হাত ডুবিয়ে দেখতে পারেন।
অল্প কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তীব্র ঠান্ডায় হাতে অস্বস্তি ও যন্ত্রণা অনুভূত হতে পারে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা কিছুটা ধারণা পান, টাইটানিকডুবির রাতে সমুদ্রে পড়ে যাওয়া যাত্রীদের কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জমে বরফ হয়ে যায়। তাহলে মাইনাস ২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও সমুদ্রের পানি তরল থাকে কীভাবে? এর মূল কারণ পানিতে মিশে থাকা লবণ।
বিশুদ্ধ পানি সাধারণত শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে জমে যায়। কিন্তু সমুদ্রের পানিতে লবণ থাকায় এর হিমাঙ্ক কমে যায়। সাধারণ লবণাক্ততার সমুদ্রের পানি প্রায় মাইনাস ১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জমতে শুরু করে। তবে পানির লবণাক্ততার তারতম্যের কারণে এই তাপমাত্রা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
টাইটানিকডুবির রাতে উত্তর আটলান্টিকের পানি ছিল অত্যন্ত ঠান্ডা। এমন পানিতে পড়ে মানুষের শরীর দ্রুত তাপ হারাতে থাকে। এতে প্রথমে ঠান্ডাজনিত শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। পরে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়ে হাইপোথার্মিয়া দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও দ্রুত হ্রাস পায়।
জাদুঘরের এই আয়োজন টাইটানিকের যাত্রীদের প্রকৃত অভিজ্ঞতার সমতুল্য নয়। তবে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বরফশীতল পানিতে হাত ডুবিয়ে দর্শনার্থীরা উপলব্ধি করতে পারেন, সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঠান্ডা পানি কতটা ভয়াবহ ভূমিকা রেখেছিল।
ভোরের আকাশ/জেআ