পৃথিবীতে হাতে গোনা কয়েকটি বাঘের গায়ের রং এমন!

প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, এ যেন কোনো রূপকথার বাঘ! শরীরজুড়ে লালচে-সোনালি নরম লোম, তার ওপর হালকা ডোরাকাটা দাগ। সাধারণ বাঘের পরিচিত কমলা রং ও গাঢ় কালো ডোরার তুলনায় এর চেহারা বেশ আলাদা। ব্যতিক্রমী এই বাঘিনীর নাম ‘আভা’। বিরল রঙের বৈশিষ্ট্যের কারণে সে মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে বিশেষ কৌতূহল।
আভার শরীরের লোমের রং লালচে-সোনালি, আর ডোরাকাটা দাগগুলোও সাধারণ বাঘের তুলনায় অনেক হালকা। বাঘের শরীরে এমন রঙের বৈচিত্র্য অত্যন্ত বিরল। তবে আভার এই বৈশিষ্ট্যকে অ্যালবিনিজম বা শ্বেতবর্ণতা হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। প্রচলিত সাদা কিংবা সোনালি বাঘের রঙের ধরন থেকেও তার চেহারায় ভিন্নতা দেখা যায়।
ছোটবেলায় আভাকে উদ্ধার করার পর একটি বন্য প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই নিরাপদ পরিবেশে তার দেখাশোনা করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আভা স্বভাবে বেশ শান্ত। মানুষের মনোযোগ পেতে পছন্দ করে বলে তারা জানিয়েছেন। সমবয়সী অনেক বাঘের তুলনায় তার আচরণও অপেক্ষাকৃত কোমল বলে বর্ণনা করেছেন পরিচর্যাকারীরা।
তবে বাঘ স্বভাবতই শক্তিশালী বন্য প্রাণী। মানুষের উপস্থিতিতে কোনো বাঘ শান্ত আচরণ করলেও তাকে পোষা প্রাণীর মতো নিরাপদ মনে করার সুযোগ নেই। তাই আভার ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য মানুষের কৌতূহল বাড়ালেও তার সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
আভার অস্বাভাবিক গায়ের রং প্রাণিজগতের জিনগত বৈচিত্র্যের বিষয়টিও সামনে এনেছে। একই প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যেও জিনগত কারণে শরীরের রং, দাগ ও বাহ্যিক গঠনে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তবে আভার শরীরে ঠিক কোন জিনগত পরিবর্তনের কারণে এমন রঙের বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য জিনগত পরীক্ষার তথ্য প্রয়োজন।
আভার মতো ব্যতিক্রমী প্রাণী প্রকৃতির বৈচিত্র্য সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ায়। একই সঙ্গে বন্য প্রাণীর সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয় ও বৈজ্ঞানিকভাবে তাদের বৈশিষ্ট্য বোঝার গুরুত্বও তুলে ধরে।
ভোরের আকাশ/জেআ