‘ধুরন্ধর’ বিতর্কে আইনি জটের অবসান

বক্স অফিসে আলোড়ন তোলা ‘ধুরন্ধর’ এবং এর সিক্যুয়েলকে ঘিরে চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগ থেকে সৃষ্ট আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। মানহানির মামলায় প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পর বম্বে হাইকোর্ট মামলাটি নিষ্পত্তি করেছে।
পরিচালক আদিত্য ধর নির্মিত ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির পরই বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সাফল্য পায়। ছবিটি ভারতে হাজার কোটির বেশি এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৩০০ কোটিরও বেশি আয় করে। এর ধারাবাহিকতায় মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর ২’ও বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭৮৮ কোটি রুপি আয় করে নতুন রেকর্ড গড়ে।
তবে এই সাফল্যের মধ্যেই বিতর্কের জন্ম দেন পরিচালক আদিত্য ধর। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ধুরন্ধর’-এর কাহিনি তার ২০২৩ সালে নিবন্ধিত ‘ডি-সাহেব’ চিত্রনাট্যের অনুকরণ। এ বিষয়ে তিনি স্ক্রিনরাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের কথাও বলেন।
গত ৩০ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আদিত্য ধর মানহানির অভিযোগ এনে বম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার বিচারপতি আরিফ ডক্টরের একক বেঞ্চে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে সন্তোষ কুমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি তার মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছেন। এরপর আদিত্য ধরের আইনজীবী আদালতকে জানান, এই ক্ষমা প্রার্থনার পর তার মক্কেল আর মামলাটি চালিয়ে নিতে আগ্রহী নন।
আদালত উভয় পক্ষের সম্মতিতে মামলার নিষ্পত্তি করে। ফলে আপাতত ‘ধুরন্ধর’কে ঘিরে তৈরি হওয়া মানহানির আইনি জটিলতা দূর হলো। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগ নিয়ে চাইলে সন্তোষ কুমার আলাদা আইনি প্রক্রিয়ায় তার দাবি উত্থাপন করতে পারবেন। এই রায়ের মাধ্যমে সেই পথ খোলা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, মানহানির মামলা মিটলেও ‘ধুরন্ধর’ ঘিরে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনা এখনো চলমান।
ভোরের আকাশ/সু.পা