বিমানবন্দরে আনসারের সততায় উদ্ধার ৪ লাখ টাকার ল্যাপটপ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া দুটি ল্যাপটপ, পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আনুমানিক ৪ লাখ টাকা মূল্যের এসব সামগ্রী মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সকাল আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-০২ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন এপিসি মো. গোলাম রব্বানী, এপিসি মো. ইমান আলী ও এপিসি মো. সাহেব আলী। এ সময় তাঁরা একটি ট্রলির ওপর পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পরীক্ষা করে এর ভেতরে দুটি ল্যাপটপ, একটি পাসপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাওয়া যায়।
পাসপোর্টে থাকা তথ্য যাচাই করে জানা যায়, ব্যাগটি চীন থেকে BG-367 ফ্লাইটে আসা যাত্রী মো. রাকিবুল ইসলামের। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শিফট ইনচার্জ পিসি মো. নিজাম উদ্দিনকে জানানো হয়। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাগের মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি পাসপোর্টে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল ফোনে রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
খবর পেয়ে রাকিবুল ইসলাম দ্রুত বিমানবন্দরের ক্যানোপি-০২ এলাকায় উপস্থিত হন। পরে তাঁকে ডিউটি সিকিউরিটি অফিসারের (ডিএসও) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে উদ্ধার করা সামগ্রীর প্রকৃত মালিক হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দুটি ল্যাপটপ, পাসপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ব্যাগ হারিয়ে যাওয়ার পর মূল্যবান ল্যাপটপ, পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন রাকিবুল ইসলাম। আনসার সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাগ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বিমানবন্দরে আসেন। যাচাই-বাছাই শেষে সামগ্রীগুলো অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় আনসার সদস্যদের সততা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করে তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রী ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে সহযোগিতা করে থাকেন দায়িত্বপালনরত আনসার সদস্যরা। হারানো মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার এ ঘটনা তাঁদের দায়িত্ববোধ, সততা ও জনসেবামূলক মানসিকতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মহাপরিচালকের নির্দেশনায় বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তাঁরা সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে সহযোগিতা, হারানো সম্পদ উদ্ধার ও অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করছেন। তাঁদের এ ধরনের দায়িত্বশীল ভূমিকা জনসাধারণের নিরাপত্তা ও আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভোরের আকাশ/জেআ