পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে: ইশরাক

পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের সঠিক মূল্যায়নের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৪-এর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ‘নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখি, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ি’—ক্লিনিং ডে ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।
প্রতিমাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহের শনিবার এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মসূচিতে ইশরাক হোসেন নিজে বিভিন্ন ড্রেন ও এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে স্প্রে ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন।
এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের সঠিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে এলাকাবাসীর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করেছেন এবং সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় এ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁরা ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে এসেছেন।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নগরবাসী তাঁদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। তাঁরা যে কাজ করেন, তা না করা হলে এই শহরে মানুষের বসবাস করা সম্ভব হতো না। তাঁরা আট ঘণ্টা ধরে কাজ করেন, অথচ সেই তুলনায় তাঁদের মজুরি খুবই কম এবং সুযোগ-সুবিধাও তেমন নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি হয়তো এখন আপনাদের অনেক কিছু দিতে পারব না। কিন্তু আপনাদের কষ্ট, আপনাদের শ্রম আমি সব সময় মনে-প্রাণে ধারণ করি। ভবিষ্যতে আপনাদের জন্য কী করা যায়, সে চেষ্টা করব।’
নিজের বাবার প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁর বাবা মেহনতি ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করে শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত মানুষগুলোর প্রতি তাঁর বাবার বিশেষ অনুভূতি ছিল। তিনিও তাঁদের প্রতি একইভাবে অনুভূতি ধারণ করেন।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন ও জীবনযাপনের পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি তাঁদের অনেক কলোনিতে গেছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। তাঁদের জন্য যে পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া দরকার ছিল, তা সরকার, রাষ্ট্র ও জাতি অতীতে করতে পারেনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘অবশ্যই এটার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সেই পরিবর্তন ঘটানোর জন্যই একটা গণঅভ্যুত্থানের পরে আজকে আমরা নির্বাচিত একটা সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি।’
তিনি বলেন, রাজনীতি করছেন মানুষের জন্য কাজ করতে এবং তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে। এটাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। ধনী-গরিব, হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সমান মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে।
নিজের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি নতুন সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁকে তাঁর মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুলত্রুটি হতে পারে। সেগুলো কাটিয়ে উঠে মানুষের সঠিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
কর্মসূচিতে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/এনএস