আসন দিয়ে এনসিপি নেতাদের কেনা সম্ভব নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ

সংসদীয় আসনের ভাগ দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) কেনা যাবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আসন ভাগাভাগি বা সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন মানে হবে—মধ্যরাতের ভোটের পুনরাবৃত্তি। আমরা বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করব না। জনগণের সামনে বিকল্প থাকতে হবে। আগের মতো ওসি নির্ভর বা প্রশাসননির্ভর নির্বাচন আমরা চাই না।
তিনি বলেন, আমরা বিক্রি হতে আসিনি। আসন দিয়ে আমাদের কেনা সম্ভব নয়। নতুন বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের আস্থা থাকলেই আমরা টিকে থাকব।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে এখন পর্যন্ত একটি প্রমাণও হাজির করা যায়নি বলে দাবি তার। তিনি বলেন, এক বছরে একজনও যদি প্রমাণ দিতে পারে নাই যে আমরা দুর্নীতি করেছি। যদি নথি, অডিও, ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। কিন্তু ভুয়া সংবাদ দিয়ে চরিত্রহনন করা হলে তার দায় নিতে হবে।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, কেবল নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেই হবে না, বরং পুরো রাজনৈতিক খেলার নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। আগে দেখা গেছে রেফারি গোল দিয়েছে, প্রশাসন খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে। এবার নিয়ম বদলাতে হবে। রেফারি রেফারি থাকবে, খেলোয়াড় খেলোয়াড় থাকবে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।
নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের টাইমলাইন নিয়ে কিছু আসে-যায় না। নভেম্বর-ডিসেম্বর হলেও আপত্তি নেই। তবে রুলস অব দ্য গেম বাতিল করে নির্বাচন করতে হবে। গণপরিষদ নির্বাচন করতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্যসচিব জহুরুল ইসলাম, আরিফ সোহেল ও ফরিদুল হক।
ভোরের আকাশ/এসএইচ