নারীবিদ্বেষী পোষ্ট নিয়ে বিতর্কে পুরোদেশ

গত কয়েকদিন ধরে একটি পোষ্ট নিয়ে তোলপাড় পুরোদেশ-এমনই চিত্র ফুঠে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ বিশিষ্টজনদের দৃষ্টিতে। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি নারীবিদ্বেষী পোস্টকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনাসহ ব্যাপক বিতর্কে সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ জনগনের মধ্যে। এই পোষ্ট কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী সংগঠনসহ দেশের অন্যান্য নারী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো একে ‘নারীবিদ্বেষী’ ও ‘মধ্যযুগীয় মানসিকতা’ বলে অভিহিত করেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিবাদী কণ্ঠ উচ্চারিত হচ্ছে-এমনটাই বলছেন রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, পোষ্টের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীসহ নারী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ মিছিল ও ঝাড়ু মিছিল করেছে। এমনকি এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলও। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই ধরণের বিতর্ক ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তীব্র সমালোচনার মুখে জামায়াতে ইসলামী দাবি, দলটির আমির শফিকুর রহমানের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডল হ্যাক করে পোস্টটি করা হয়েছে। ওই পোস্ট বা কনটেন্ট জামায়াতের আমিরের কোনো বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। একই সময়ে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় জামায়াত। বিষয়টি নিয়ে হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে জামায়াত। জিডিতে শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক করে নারী অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। শফিকুর রহমান ও দলের পক্ষে জিডিটি করেছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।
এ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম বলেন, নারীদের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান বহু বছর ধরেই স্পষ্ট। যেখানে ভোটারদের ৫২ শতাংশ নারী, সেখানে তাদের অপমানজনক কথা বলে কীভাবে রাজনীতি করার দাবি করা যায়?
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জামায়াত আমির প্রকাশ্য ক্ষমা না চাইলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের নেতা সীমা আক্তার বলেন, বাংলাদেশে যখনই নারীরা নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তখনই তারা অনলাইনে হয়রানির শিকার হন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ভুয়া ও বট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বড়ই বলেন, জামায়াত আমিরের মন্তব্যকে আইডি হ্যাক দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই দাবির প্রমাণ জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। জামায়াত আমিরের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও জানানো হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল ছাত্রদলের সভাপতি এবং হল সংসদের সাংস্কৃতিক ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারজানা আক্তার টুম্পা বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে জামায়াত আমির নারীদের নিয়ে যে অশালীন মন্তব্য করেছেন, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রুতি রাজ চৌধুরী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা যে বৈষম্যহীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা আজ হুমকির মুখে। একটি দল নিজেদের নামের সঙ্গে ইসলাম ব্যবহার করে নারীদের নিয়েই কটূক্তি করছে। আবার তার কোনো দায় নিচ্ছে না। ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা নারীদের অপমান করে, তাদের আসল চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচন করতে হবে।
শাখা ছাত্রদলের সহছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে কর্মজীবী মা-বোনেরাই দেশ চালিয়ে নিচ্ছেন। সেখানে তাঁদের নিয়ে এমন কটূক্তি অত্যন্ত নিন্দনীয়। ইসলামে নারীর সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বলা হয়েছে, অথচ তারা সেই নারীদেরই অপমান করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
মার্কেটিং বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ‘নারী অঙ্গন’-এর সংগঠক সুমাইয়া শিকদার বলেন, আমরা আইডি হ্যাকের বিষয়টি বিশ্বাস করি না। এর আগেও বিভিন্ন সময় নারীদের কটাক্ষ করা হয়েছে। এত দ্রুত হ্যাক হয়ে আবার আইডি ফিরে আসা কীভাবে সম্ভব? তারা কি বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়? রাষ্ট্রের কাছে কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো আইন নেই? আমরা জামায়াত নেতার এসব বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। রাষ্ট্রের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়জুন্নেসা হল সংসদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক তাসফিয়া তাবাসসুম, নারী অঙ্গনের সংগঠক জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
এসময় অংশগ্রহণকারীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, নারী হেনস্তাকারীদের ঠাঁই নাই’, ‘মোল্লাতন্ত্রের বিষদাঁত, ভেঙে দাও’সহ নানা স্লোগান দেন। তবে বিএনপি এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। জামায়াত আমিরের নারীবিদ্বেষী পোস্টের ৯ ঘণ্টা পর আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক, প্রশ্ন বিএনপির।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জামায়াতে ইসলামী এই দেশটাকে আফগানিস্তান বানাতে চায়। ওরা বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়।
জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক এক ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) পোস্টের বিষয়ে তিনি বলেন, আমির যদি নারীবিদ্বেষী এমন মন্তব্য করে থাকেন, তবে তিনি অন্যায় করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি জানি না এটা সত্য না মিথ্যা। যদি এটা উনি বলে থাকেন, তাহলে এটা অন্যায় করেছেন। মহিলারা কখনোই এটা মেনে নিতে পারবে না।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটের জন্য অনেক নারীকে মনোনয়ন দিয়েছি। অথচ ওই দল জাতীয় সংসদে নির্বাচনের জন্য কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি। তাদের কর্মকাণ্ডেই বোঝা যায় তারা এ দেশের নারী সমাজকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে চায়। তারা নারীদের অগ্রগতি, প্রগতি, সমৃদ্ধি ও মর্যাদা দিতে চায় না। এগুলো হলো মধ্যযুগীয় ভাবনা।
এ প্রসঙ্গে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, জামায়াতের আমির পুরো নারী সমাজকে চরমভাবে অপমান করেছেন। তার ফেসবুক আইডি সত্যিই হ্যাক হয়েছিল কি না, তা যদি প্রমাণ করতে না পারেন তবে তাকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে।
জামায়াতের অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে আফরোজা আব্বাস বলেন, একাত্তরে এই দলটি স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা পালন করেছিল এবং মা-বোনদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল। নারী সমাজকে আজ পুনরায় তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্সে পোস্ট দেওয়া এবং অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাওয়া দাবি করা নিয়ে সংগত কারণেই প্রশ্ন ওঠে, নারীবিদ্বেষী পোস্টের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সমালোচনার মুখে, শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে (১২টা ৪০ মিনিট) আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক?
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আমরা সবাই জানি, কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো দ্রুততম সময়ে জনগণকে অবহিত করা, যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায় এবং সবাই সতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এখানে দেখা গেল, জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর হঠাৎ করে হ্যাকের দাবি তোলা হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য? এমনকি উক্ত সময়ের মধ্যে জামায়াত আমিরের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনেক পোস্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে আমরা তাঁর এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কোনো পোস্ট দেখতে পাইনি।
মাহদী আমিন আরও বলেন, পরবর্তী সময় আমরা লক্ষ করি, তাঁরা গভীর রাতে তথা রাত ৩টা ৩০ মিনিটে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছেন। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁরা বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। যদি, তাই হয়ে থাকে, তবে প্রায় ১২ ঘণ্টা পরে কেন জিডি করা হলো? এই বিলম্বের আদৌ কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে কী? তা ছাড়া হ্যাক হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার দাবিটিই বা কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
মাহদী আমিন বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা সর্বদা নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সমঅধিকারের পক্ষে। এই ধরনের ভাষা ও মানসিকতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটা প্রকাশ্যেই নারীবিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, আমরা অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, তাঁর ভেরিফায়েড এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে নারীদের উদ্দেশ করে যে নোংরা, জঘন্য ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে দেশব্যাপী যে আলোচনা চলছে, সেটি সঠিক হলে এর মাধ্যমে পুরো সমাজব্যবস্থাকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করি।
মাহদী আমিন আরও বলেন, তিনি (জামায়াত আমির) তাঁর এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টের পোস্টে ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে যা লিখেছেন তার একটি অংশ অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “আমরা বিশ্বাস করি যে যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয় এটি অন্য কোনো রূপে পতিতাবৃত্তির মতোই।
মাহদী আমিন বলেন, এর আগেও আল-াজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন।
এর আগেও জামায়াতের একজন নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বোনদের উদ্দেশ করে ঠিক একই অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন মাহদী। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, এই দলের প্রধান প্রকাশ্যে নারীদের জন্য কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার মতো পশ্চাৎপদ বক্তব্য দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে দল মুখে মুখে ইনসাফ কায়েমের কথা বলে বেড়ায়, সেই দলটি একটি আসনেও কোনো নারীকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়নি। এই বিষয়টি নিশ্চয়ই নারীদের প্রতি তাদের হীন মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, দজামায়াত দলের একজন সদস্য টক শোতে নারীদের সংসদে যাওয়াকে তাচ্ছিল্য করে ‘ট্রফির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।
মাহদী আমিন প্রশ্ন তুলে বলেন, আমরা দেখলাম, এই দলটি প্রকাশ্যে বারবার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের দলের প্রধান পদে কোনো নারী কখনোই আসতে পারবে না। অথচ তাদের নারীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। এটাই কি তাদের তথাকথিত ইনসাফ?’
তারেক রহমানের এই উপদেষ্টা বলেন, এই দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যুক্ত থাকার কারণেই জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু নারী নেত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন আসনে বিএনপির নারী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে নামলে তাঁদের অনলাইন, অফলাইনে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নারী সদস্যরা, বিশেষ করে আমাদের ছাত্রদলের বোনেরা, সাইবার স্পেসে যে সীমাহীন, বর্বর ও মধ্যযুগীয় বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন, তা যেকোনো সচেতন মানুষকে আতঙ্কিত করবে। এসব অপপ্রচারে জড়িত আইডিগুলোর দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়, এগুলো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড।মাহদী আমিন পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারীদের ভূমিকা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্কুলে যে নারী শিশুদের শিক্ষা দিচ্ছেন, হাসপাতালে যে নারী ডাক্তার ও নার্স হিসেবে মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছেন, পুলিশ হিসেবে যে নারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন, আইনজীবী হিসেবে যে নারী বিপন্ন মানুষকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, যে নারী বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের নিয়োজিত রাখছেন, যে নারী প্রশাসনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, যে নারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন, যে নারী সাংবাদিক হিসেবে গণমাধ্যমে কাজ করছেন, কিংবা যে নারীরা বিভিন্ন খেলাধুলায় দেশের হয়ে লড়ছেন, ভাবা যায়, এই সব কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে জামায়াতের কী অপমানজনক অবস্থান!
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের জয়েন্ট কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ।
হারুন অর রশীদ বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে ডিবি। এখন দেখা হচ্ছে এটি সত্যিই হ্যাক হয়েছে কি না। যদি হ্যাক হয়ে থাকে তাহলে কারা এবং কিভাবে হ্যাক করেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ