জাতীয় সংসদ নির্বাচন
জামায়াত-এনসিপি জোট, সঙ্গী এলডিপি

হিসেব-নিকাশ ও দৌড়ঝাপ শেষে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন কয়েকটি ইসলামী দল ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা হয়েছে। তবে এই জোটের সঙ্গী হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও(এলডিপি)। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করতে গিয়ে বড় ধরনের হোঁচটে এনসিপি। দলটির সঙ্গে এনসিপির সমঝোতায় আপত্তি জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে দলের কেন্দ্রীয় ৩০ নেতার চিঠি।
এনসিপির সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় এনসিপির মধ্যে তোলপাড় চলছে। দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এমন পরিস্থিেিত বড় ধরনের ভাঙন মুখে রয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় পদত্যাগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা দল থেকে পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করলেই পদত্যাগের হিড়িক পড়বে।
এনসিপির বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সংবাদের পরপরই দলটির মধ্যে বিদ্রোহ শুরু হয়। গত দুই দিন থেকেই এ বিদ্রোহের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল।
জানা যায়, এনসিপিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দিচ্ছে জামায়াত। নতুন এ দলটি আসন চেয়েছিল ৫৬টি।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জামায়াতের নেতৃত্বে আন্দোলনরত আট দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ যে সংকটময় সময় পার করছে, সেই বাস্তবতা থেকে প্রিয় বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে শোষণ-বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়েই আটটি দল দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আরও দুটি দল বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং এনসিপি-এই জোটে সম্পৃক্ত হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, ৩০০ আসনেই নির্বাচনি সমঝোতা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং প্রায় সব আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত। শেষ পর্যায়ে যুক্ত হওয়া দুই দলের কারণে কিছু কারিগরি বিষয় রয়ে গেছে, যা মনোনয়ন দাখিলের পর পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ডা. আহমদ আব্দুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, নেজামে ইসলাম পার্টি বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ, ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েব আমির মুজিবুর রহমান হামিদী, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ। বিএনপির সঙ্গে থাকা ১২ দলীয় জোট শেষ পর্যন্ত আসন পায়নি। এই জোটের দুই দল বিএলডিপি এবং জাতীয় দল বিএনপিতে বিলুপ্ত হয়েছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অনিবন্ধিত অংশ বিএনপির সঙ্গে রয়েছে। বাকি ৯টি দল এখন জামায়াতে ভিড়েছে।
এদিকে, এনসিপি যখন জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে-তখনই দলটির একটি বড় অংশের নেতারা ভুল পথে হাঁটছে-এমনটা উল্লেখ করে দলটি একাধীক নেতা বলেন, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্ট ইস্যূতে ২০ অক্টোবর সাতক্ষীরার তালা ফুটবল মাঠে ছাত্র-যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে তোমাদের আরো বহুদূর যেতে হবে। জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না।
পক্ষান্তরে ২৮ অক্টোবর দলটির বিভাগীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে রাজশাহী পর্যটন মোটেল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কারের বিপক্ষে কেউ দাঁড়ায় বা ইতিহাসে দায়ভার রয়েছে, এমন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এনসিপির জোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, যাদের ইতিহাসের অনেক দায়ভার রয়েছে, এ রকম কোনও শক্তির সঙ্গে জোটে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক বার ভাবতে হবে। আমরা একটা নতুন রাজনৈতিক শক্তি। জনগণের অনেক প্রত্যাশা আমাদের কাছে এবং আমরাও নিজেদের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে দাঁড়াতে চাই।
জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতায় আপত্তি জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে দলের কেন্দ্রীয় ৩০ নেতার চিঠি। চিঠিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে চরম আপত্তি জানানো হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় দলের যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এনসিপির কেন্দ্রীয় ৩০ নেতা গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিগত বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে নেতারা তাদের আপত্তির ভিত্তি হিসাবে এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার কথা তুলে ধরেন।
চিঠিতে নাহিদকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এক বছর ধরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্যান্য দলের ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটাজ, এনসিপির ওপর বিভিন্ন অপকর্মের দায় চাপানোর অপচেষ্টা, ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) এবং পরে ছাত্রশক্তি বিষয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার, তাদের অনলাইন ফোর্সের মাধ্যমে এনসিপি ও দলটির ছাত্র সংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্র হননের চেষ্টা এবং সর্বোপরি; ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠেছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রশ্নে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও আমাদের দলের মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে বলে চিঠিতে নেতারা উল্লেখ করেন। ৩০ নেতা বলেন, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চিঠিতে নেতারা আরও বলেন, এর আগে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একাধিকবার ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। ১ হাজার ৮০০ মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ১২৫ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এখন অল্প কিছু আসনের জন্য কোনো জোটে যাওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে তারা মনে করছেন।
চিঠিতে এনসিপির নেতারা আরও বলেছেন, আমরা অত্যন্ত আশঙ্কার সঙ্গে লক্ষ করেছি, যখনই এই জোটের সম্ভাবনার খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে সামনে এসেছে, এর পরপরই আমাদের সমর্থনে থাকা কর্মী-সংগঠকসহ একটা বড়সংখ্যক মানুষ আমাদের দলের প্রতি তাদের সমর্থন সরিয়ে নিতে উদ্যত হয়েছেন। যদি আমাদের সমর্থন করা মধ্যপন্থি এবং নতুন রাজনীতি প্রত্যাশা করা মানুষরা সমর্থন সরিয়ে নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে পার্টির মধ্যপন্থি সমর্থক ভিত্তি হারাব।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারিত হওয়া উচিত, কৌশলগত কারণে নীতিগত অবস্থান বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন, সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনী প্রমুখ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি অবশেষে জামায়াতের সঙ্গেই সরাসরি জোট বাঁধছে। সারা দেশে মানুষের, নেতাকর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে গুটিকয়েক নেতার স্বার্থ হাসিল করতেই এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। আর এর মধ্য দিয়ে কার্যত এনসিপি জামায়াতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এদিকে ফেসবুক পোস্টে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনি জোট হওয়ার আভাস দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ। তিনি লেখেন, ৩০ আসনে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটে গেলে ব্যাপারটা ‘আত্মঘাতী’ হবে।
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন এ প্রসঙ্গে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি। আমার নেতা হবে মাজাওয়ালা, জুলাই রাজনীতির ধারক। কিন্তু পুরো জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের নাম করে তুলে দিচ্ছে জামায়াতের হাতে। আবার নাকি বাউন্স ব্যাক করবে, হাস্যকর। বিএনপি, এই জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ১৭ বছর ক্ষমতা থেকে দূরে ছিল। আর বিএনপির অধীনে জামায়াতের সঙ্গে জোট হয়েছিল, জামায়াতের অধীনে না। যেখানে এনসিপিকে বলাই হয় জামায়াতের আরেকটা দোকান, তাহলে কেন এনসিপি আগে নিজের স্বকীয়তা, নিজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াতকে বেছে নিতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে? তিনজন মন্ত্রী ছিল না ক্ষমতায়? পারে নাই তো।
এ প্রসঙ্গে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বা আসন নিয়ে সমঝোতা করলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে সামান্তা শারমিন লিখেছেন, জামায়াতে ইসলামী নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয়। তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতা বা সমঝোতা এনসিপির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের জুলাইয়ের স্পিরিট বা বাংলাদেশ নিয়ে পরিকল্পনায় একমত দলগুলোই জোটে আসতে পারে বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন জামায়াতের নেতারা। তার ভাষ্যে, এনসিপির রাষ্ট্রকল্প, রাজনৈতিক দর্শন ও মূলনীতি জামায়াত থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচন তথা সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে গড়ে উঠা দল হিসেবে এই তিনটি বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান ছাড়া রাজনৈতিক মিত্রতা সম্ভব নয়।
তিনি আরও লেখেন, পিআর আওয়াজ তুলে সংসদীয় সংস্কার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিল জামায়াত। ফলে আহ্বায়ক পূর্বে ঘোষণা করেছিলেন, সংস্কারের পক্ষে নয় এমন দলের সঙ্গে জোট সম্ভব নয়। এ কারণেই জুলাই পদযাত্রার পর ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সারাদেশ থেকে প্রার্থী আহ্বান করা হয়।
সামান্তা শারমিন দাবি করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সমালোচনা করা মানেই বিএনপির পক্ষে অবস্থান নয়। বরং এনসিপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রকাশিত রাজনৈতিক অবস্থানকেই তিনি সঠিক মনে করেন। তার মতে, বিএনপি বা জামায়াত যেকোনো পক্ষের সঙ্গেই জোট করা হলে তা এনসিপির নীতিগত অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার শামিল হবে।
জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা কেন, ব্যাখ্যা দিলেন এনসিপির আখতার হোসেন: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্ভাব্য জোট বা নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে যখন দলটির ভেতর-বাইরে তীব্র সমালোচনা চলছে, তখন সেই বিতর্কে ব্যাখ্যা তুলে ধরলেন এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গেই অন্য দলগুলোর মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হতো। সেখানে সংস্কারের পয়েন্টগুলোতে ন্যাচারালি (স্বাভাবিকভাবেই) এনসিপি, জামায়াত এবং অন্য দলগুলো একমত হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশটাকে নতুন করে গড়া, নতুনভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে গড়ে তোলার জন্য যে রাজনীতি, সে রাজনীতির প্রতি যে কমিটমেন্ট সেটাকেই নির্বাচনী রাজনীতিতে জোটের বা সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রধানতম বিবেচ্য বিষয় হিসেবে এটাকে মূল্যায়ন করছি।
ভোরের আকাশ/এসএইচ