শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ত দিন শেষে রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে ঘরের আলো নিভিয়ে ফোনের স্ক্রিনে স্ক্রোল করা—আমাদের অনেকেরই নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটাঘাঁটি, রিলস বা শর্টস দেখা কিংবা মেসেজে চ্যাটিং করতে করতে কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যায়, তা আমরা টেরই পাই না। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসটিকে সাধারণ মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ঘরের আলো বন্ধ করে অন্ধকারে মোবাইল ব্যবহার করা আমাদের চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য এক নীরব অভিশাপ।

অন্ধকারে একটানা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে শরীরে এবং চোখে কী কী মারাত্মক ক্ষতি হয়, তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

১. ডিজিটাল আই স্ট্রেন ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস

স্বাভাবিক আলোতে আমাদের চোখের মণি বা পিউপিল সংকুচিত থাকে। কিন্তু অন্ধকারে চোখের মণি বড় হয়ে যায় যাতে বেশি আলো ভেতরে ঢুকতে পারে।

  • কী ক্ষতি হয়: এই অবস্থায় যখন ফোনের তীব্র আলো সরাসরি চোখে পড়ে, তখন চোখের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া , চোখ জ্বালাপোড়া করা, চোখ লাল হওয়া এবং ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা হয়। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাসে চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে।

২. অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া

আমাদের রাতে ঘুম আসার পেছনে 'মেলাটোনিন'  নামের একটি হরমোন কাজ করে। অন্ধকার হলে মস্তিষ্ক এই হরমোনটি নিঃসরণ করে, যা শরীরকে ঘুমের সংকেত দেয়।

  • কী ক্ষতি হয়: স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে এক ধরণের ক্ষতিকর 'ব্লু লাইট' বা নীল আলো নির্গত হয়। অন্ধকারে এই নীল আলো আমাদের চোখ দিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছালে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। সে মনে করে এখনো দিন রয়েছে এবং মেলাটোনিন হরমোন তৈরি বন্ধ করে দেয়। ফলে চোখের ঘুম উবে যায় এবং মানুষ অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়ার শিকার হয়।

৩. মারাত্মক মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন

অন্ধকারে ফোনের তীব্র আলোর দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের পেশিগুলো প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ে। চোখের এই অতিরিক্ত চাপের কারণে অপটিক স্নায়ুতে টান পড়ে, যার ফলে পরদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪. মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতা

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং রাতের পর রাত জেগে অন্ধকারে ফোন ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। মেলাটোনিন ও ডোপামিনের মতো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, কাজে মনোযোগ কমে এবং ধীরে ধীরে মানুষ তীব্র মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতায় ভুগতে শুরু করে।

৫. ‘স্মার্টফোন ব্লাইন্ডনেস’ বা সাময়িক অন্ধত্ব

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন অনেক ঘটনা দেখা গেছে, যেখানে রাতে এক কাত হয়ে শুয়ে এক চোখ বালিশে ঢেকে অন্য চোখে অন্ধকারে ফোন ব্যবহারের কারণে সাময়িকভাবে মানুষ এক চোখে অন্ধ হয়ে গেছেন। একে বলা হয় 'ট্রানজিয়েন্ট স্মার্টফোন ব্লাইন্ডনেস'। যদিও এটি সাময়িক, তবে অবহেলা করলে এটি চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

আরও পড়ুন

‘অন্যায়ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে রণবীরকে’

ক্ষতি এড়াতে চিকিৎসকদের কিছু জরুরি পরামর্শ:

  • ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন: যদি রাতেই ফোন ব্যবহার করতেই হয়, তবে প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিনের দিকে তাকানোর পর, ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের পেশি আরাম পায়।
  • নাইট মোড ও ব্লু লাইট ফিল্টার: সন্ধ্যার পর থেকেই ফোনে 'নাইট মোড'  বা 'আই কমফোর্ট শিল্ড' অন করে রাখুন। এটি ক্ষতিকর নীল আলোর তীব্রতা অনেকটা কমিয়ে দেয়।
  • স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমান: ঘরের আলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে ফোনের ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা একদম কমিয়ে রাখুন। অটো-ব্রাইটনেস মোড অন রাখতে পারেন।
  • শোবার ঘর হোক ফোন-মুক্ত: ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে ফোন, ল্যাপটপ বা যেকোনো স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করে দিন। ফোনটিকে বিছানা থেকে দূরে রেখে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।

বিশেষজ্ঞের শেষ কথা:
প্রযুক্তির সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনি অসচেতন ব্যবহারের মাশুল দিতে হয় আমাদের শরীরকে। সামান্য একটু বিনোদনের জন্য নিজের অমূল্য চোখ ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবেন না। আজ থেকেই অন্ধকার ঘরে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস ত্যাগ করুন, ঘরের আলো জ্বালিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ফোন দূরে রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমান।

ভোরের আকাশ/জেআ

মোবাইল ব্যবহারস্মার্টফোনমোবাইলের ক্ষতিঘুমের সমস্যাচোখের যত্ন

শেয়ার করুন: