ঝগড়ার পরও ভালোবাসা অটুট রাখতে যা বলছেন কাপল থেরাপিস্টরা

ভালোবাসার সম্পর্কে মতবিরোধ বা ঝগড়া হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝগড়া নয়; বরং ঝগড়ার ধরনই একটি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। সম্মান, ধৈর্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে মতবিরোধ সামলাতে পারলে সম্পর্ক আরও গভীর ও দৃঢ় হতে পারে।
কাপল থেরাপিস্টদের মতে, ঝগড়ার সময় হঠাৎ আবেগের বশে তর্কে জড়িয়ে না পড়ে দুজনের মানসিক প্রস্তুতি থাকলে আলোচনা শুরু করা উচিত। একই সঙ্গে গালাগাল, অপমান বা বিদ্রূপ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে আগে থেকেই পারস্পরিক সম্মতি থাকা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাগের সময় কণ্ঠস্বর নিচু রেখে ধীরে কথা বললে ভুল–বোঝাবুঝি কমে। অভিযোগের ভাষা ব্যবহার না করে কৌতূহল নিয়ে সঙ্গীর দৃষ্টিভঙ্গি জানার চেষ্টা করলে সমস্যা সমাধান সহজ হয়।
তাদের পরামর্শ, ‘তুমি সব সময় এমন করো’—এ ধরনের অভিযোগের বদলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা উচিত। যেমন, ‘তোমার এই আচরণে আমি কষ্ট পেয়েছি।’ এতে কথোপকথন কম সংঘাতপূর্ণ হয়।
কাপল থেরাপিস্টরা আরও বলেন, অনেক সময় ঝগড়ার মূল কারণ কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়; বরং অবহেলা, নিরাপত্তাহীনতা বা অসম্মানের অনুভূতি। তাই প্রকৃত সমস্যাটি খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সঙ্গীর হাত ধরা, পাশে বসা বা কাঁধে হাত রাখার মতো ছোট ছোট ইতিবাচক আচরণও উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করতে পারে। আবার আলোচনা অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তবে পরে অবশ্যই আলোচনায় ফিরে এসে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝগড়ার সময় নিজের কথা বলার চেয়ে আগে সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভুল–বোঝাবুঝি কমে এবং একে অপরের অনুভূতি বোঝা সহজ হয়।
তারা আরও বলেন, দিনের শেষে দুজনের মনে রাখা উচিত—সমস্যা দুজনের বিরুদ্ধে নয়; বরং দুজন মিলে সমস্যার সমাধান করবেন। তাই মতবিরোধের পরও ভালোবাসা, সম্মান ও পারস্পরিক আস্থার জায়গাটি অটুট রাখাই একটি সুস্থ সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।
ভোরের আকাশ/এনএ