শিরোনাম
সংবিধানে শিক্ষা-চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার করার প্রস্তাবনিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শনী স্থগিতউদয়ন স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভসরানো হলো এসআরবি প্রধানকেনারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভদুই মহাসড়ক অচল: শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-সংঘর্ষ, আহত ৩০পদ্মা-যমুনায় দ্বিতীয় সেতু ও ব্যারেজ নির্মাণ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরচারদিন গ্যাস বন্ধের খবর গুজব: পেট্রোবাংলাসংবিধানে শিক্ষা-চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার করার প্রস্তাবনিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শনী স্থগিতউদয়ন স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভসরানো হলো এসআরবি প্রধানকেনারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভদুই মহাসড়ক অচল: শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-সংঘর্ষ, আহত ৩০পদ্মা-যমুনায় দ্বিতীয় সেতু ও ব্যারেজ নির্মাণ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরচারদিন গ্যাস বন্ধের খবর গুজব: পেট্রোবাংলা

হার্ট অ্যাটাকের প্রথম কয়েক মিনিট কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে রোগীর জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে। অন্যদিকে, আতঙ্কিত হয়ে সময় নষ্ট করা কিংবা ভুল চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা বিপদ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে প্রথম পাঁচ মিনিটেই কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হার্ট অ্যাটাক হলো হৃদ্‌যন্ত্রের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া। সাধারণত রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়। এতে হৃদ্‌পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ চিনবেন যেভাবে

হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী ভাব, ব্যথা বা চেপে ধরার অনুভূতি। তবে সবার ক্ষেত্রে লক্ষণ একই রকম হয় না। ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে এক বা দুই হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের দিকে।

এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব বা বমি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, পিঠ বা কাঁধে ব্যথা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণ বেশি স্পষ্ট হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।

হার্ট অ্যাটাক হলে প্রথম ৫ মিনিটে করণীয়

১. দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিন

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমেই জরুরি চিকিৎসাসেবায় ফোন করুন। বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীরা পথে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতে পারেন।

২. রোগীকে বিশ্রামে রাখুন

রোগীকে হাঁটাচলা বা শারীরিক পরিশ্রম করতে দেবেন না। তাঁকে আরামদায়ক অবস্থানে বসিয়ে বা আধশোয়া করে রাখুন। প্রয়োজনে পিঠে ভর দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। রোগীকে শান্ত রাখুন এবং অযথা নড়াচড়া করতে নিষেধ করুন।

৩. আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করে দিন

রোগীর গলার টাই, বেল্ট বা আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করে দিন, যাতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে শ্বাস নিতে পারেন। আশপাশে ভিড় জমতে দেবেন না। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ দেবেন না

রোগীর আগে থেকে এনজাইনা বা হৃদ্‌রোগের জন্য নির্ধারিত ওষুধ থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী তা গ্রহণে সহায়তা করুন। অ্যাসপিরিন দেওয়ার বিষয়ে জরুরি সেবার কর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি থাকলে কিংবা চিকিৎসক আগে নিষেধ করে থাকলে তা দেওয়া যাবে না। ওষুধ খাইয়ে ব্যথা কমার অপেক্ষায় থেকে হাসপাতালে যেতে দেরি করা বিপজ্জনক।

৫. রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস ও সাড়া দেওয়ার বিষয়টি খেয়াল রাখুন

চিকিৎসাসহায়তা আসা পর্যন্ত রোগী সচেতন আছেন কি না এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করুন। রোগী অচেতন হয়ে গেলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে দ্রুত সিপিআর (CPR) শুরু করতে হবে। প্রশিক্ষণ থাকলে বুকের মাঝখানে জোরে ও দ্রুত চাপ দিন। প্রশিক্ষণ না থাকলেও জরুরি সেবার ফোন অপারেটরের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কাছে অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর (AED) থাকলে সেটি ব্যবহারের ব্যবস্থা করুন।

যেসব ভুল করা যাবে না

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে একা রাখা যাবে না। হাঁটাহাঁটি করানো, জোর করে খাবার বা পানি খাওয়ানো, নিজের সিদ্ধান্তে একাধিক ওষুধ দেওয়া কিংবা ব্যথা কমে যাওয়ার অপেক্ষা করা ঠিক নয়। একই সঙ্গে কবিরাজি বা ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে হাসপাতালে যেতে দেরি করা যাবে না।

মনে রাখবেন

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুকব্যথা বা অন্য কোনো লক্ষণকে গ্যাসের সমস্যা ভেবে অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে। সন্দেহ হলেও দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করাই রোগীর জীবন রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ভোরের আকাশ/জেআ

হার্ট অ্যাটাক

শেয়ার করুন: