শিরোনাম
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক

এই ৭ খাবার খেলে বাড়তে পারে ইউরিক অ্যাসিড

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গাউট (Gout) বা জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা ও চলাফেরায় সমস্যা অন্যতম। চিকিৎসকরা জানান, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই ইউরিক অ্যাসিড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিউরিন (Purine) সমৃদ্ধ খাবার শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকা থেকে বাদ বা সীমিত করা উচিত।

১. লাল মাংস বা রেড মিট (Red Meat)
ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক খাবার হলো রেড মিট।

  • কেন বাদ দেবেন: খাসির মাংস, গরুর মাংস, ভেড়া বা মহিষের মাংসে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন থাকে। এগুলো হজম হওয়ার পর শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন করে। তাই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে লাল মাংস খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।

২. পশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাংস (Organ Meat)
সাধারণ মাংসের তুলনায় পশুর ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাংসে পিউরিনের ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে।

  • কেন বাদ দেবেন: পশুর কলিজা (Liver), মগজ (Brain), গিলা, হার্ট বা ফুসফুস এবং জিহ্বা ইত্যাদি খাবারে পিউরিনের মাত্রা থাকে আকাশচুম্বী। এগুলো খাওয়া মাত্রই রক্তের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা হু হু করে বেড়ে যেতে পারে।

৩. নির্দিষ্ট কিছু সামুদ্রিক মাছ (Sea Food)
সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু কিছু মাছ পরিহার করতে হবে।

  • কেন বাদ দেবেন: সামুদ্রিক মাছ যেমন—ইলিশ, রূপচাঁদা, সার্ডিন, ম্যাকেরেল, টুনা, চিংড়ি এবং কাঁকড়াতে উচ্চ মাত্রায় পিউরিন থাকে। নদী বা পুকুরের সাধারণ মাছ পরিমিত পরিমাণে খাওয়া গেলেও এই বিশেষ সামুদ্রিক মাছগুলো এড়িয়ে চলাই উত্তম।

৪. চিনিযুক্ত পানীয় ও হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ
কেবল লবণের মতো উপাদানই নয়, অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনিও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে সমানভাবে দায়ী।

  • কেন বাদ দেবেন: বাজারে কিনতে পাওয়া কোমল পানীয় (Soft Drinks), কৃত্রিম ফলের রস, প্যাকেটজাত জুস এবং এনার্জি ড্রিংকসে প্রচুর পরিমাণে ‘হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ’ ব্যবহার করা হয়। ফ্রুক্টোজ শরীরে প্রবেশ করে পিউরিনের বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়, যা পরোক্ষভাবে ইউরিক অ্যাসিডের উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৫. মসুর ডাল ও নির্দিষ্ট কিছু সবজি (পরিমিত করার পরামর্শ)
কিছু কিছু উদ্ভিজ্জ খাবারেও মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার পিউরিন পাওয়া যায়, যা অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

  • কেন বাদ দেবেন: মসুর ডাল, মটরশুঁটি, পুঁইশাক, পালং শাক, ফুলকপি, ব্রোকলি এবং মাশরুমে পিউরিন থাকে। তবে আধুনিক গবেষণা বলে যে উদ্ভিজ্জ পিউরিন প্রাণিজ পিউরিনের মতো অতটা ক্ষতিকর নয়, তবুও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা খুব বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এগুলো খাওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত করা উচিত।

৬. ইস্ট (Yeast) যুক্ত খাবার ও বেকারি পণ্য
প্যাকেটজাত খাবার বা বেকারি পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত ইস্ট ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।

  • কেন বাদ দেবেন: বাজারে পাওয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার, পাউরুটি, কেক, বিস্কুট বা ডোনাট তৈরিতে যে ইস্ট ব্যবহার করা হয়, তাতে উচ্চ মাত্রায় পিউরিন থাকে। তাই এই ধরণের বেকারি আইটেম এবং অতিরিক্ত প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলতে হবে।

৭. অ্যালকোহল ও মদপান
অ্যালকোহল বা মদ সরাসরি ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির জন্য দায়ী এবং এটি শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিড বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

আরও পড়ুন

নতুন গান প্রকাশের প্রস্তুতিতে বিটিএস

  • কেন বাদ দেবেন: বিশেষ করে বিয়ারে (Beer) প্রচুর পরিমাণে পিউরিন থাকে। এছাড়া যেকোনো অ্যালকোহল লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে শরীর প্রস্রাবের মাধ্যমে বাড়তি ইউরিক অ্যাসিড বের করে দিতে পারে না এবং তা রক্তে জমতে থাকে।

ইউরিক অ্যাসিড কমাতে যা বেশি করে খাবেন (সহজ কিছু টিপস):

  • পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করুন। পানি রক্তের ইউরিক অ্যাসিডকে ফিল্টার করে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়।
  • ভিটামিন সি যুক্ত ফল: লেবু, আমলকী, কমলা বা পেয়ারা খান। ভিটামিন-সি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
  • গ্রিন টি ও টক দই: প্রতিদিন এক-দুই কাপ গ্রিন টি এবং চর্বিহীন টক দই ডায়েটে রাখতে পারেন, যা বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যাকে অবহেলা করলে তা পরবর্তীতে কিডনি বিকল হওয়ার মতো বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে বা রক্ত পরীক্ষায় মাত্রা বেশি এলে অবিলম্বে একজন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট তৈরি করে নেওয়া উচিত।

ভোরের আকাশ/জেআ

ফাস্টফুডকিডনি সমস্যাস্বাস্থ্য টিপসইউরিক অ্যাসিড

শেয়ার করুন: