ডিমের সতেজতা যাচাই করবেন কীভাবে?

ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাবার। প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ এই খাবারটি প্রায় সব বয়সী মানুষের কাছেই জনপ্রিয়। তবে ডিম কেনার সময় বা রান্নার আগে একটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি—ডিমটি টাটকা নাকি পুরোনো।
অনেক সময় বাইরে থেকে ডিম দেখতে ঠিকঠাক মনে হলেও ভেতরে তা নষ্ট হতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ডিমের সতেজতা যাচাই করা প্রয়োজন। কয়েকটি সহজ উপায়ে খুব সহজেই বোঝা যায় ডিমটি টাটকা কি না।
পানির পরীক্ষায় ডিমের সতেজতা যাচাই
একটি বাটি বা পাত্রে ঠান্ডা পানি নিয়ে তাতে ডিমটি আস্তে করে ছেড়ে দিন।
- যদি ডিমটি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে একেবারে সমতলভাবে শুয়ে থাকে, তাহলে ডিমটি খুবই টাটকা।
- যদি ডিমটি তলিয়ে যায় কিন্তু এক প্রান্ত সামান্য ওপরে উঠে থাকে, তাহলে ডিমটি কিছুদিনের পুরোনো হলেও খাওয়ার উপযোগী।
- যদি ডিমটি পানির ওপর ভেসে ওঠে, তাহলে সেটি অনেক পুরোনো এবং খাওয়ার অনুপযুক্ত হতে পারে।
এর কারণ হলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিমের ভেতরে বাতাসের পরিমাণ বাড়তে থাকে, ফলে ডিমটি ভাসতে শুরু করে।

ঝাঁকিয়ে দেখুন
ডিমটি কানের কাছে নিয়ে হালকা ঝাঁকান।
- কোনো শব্দ না হলে ডিমটি সাধারণত টাটকা।
- ভেতরে তরল নড়াচড়ার শব্দ শোনা গেলে ডিমটি পুরোনো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ভেঙে পরীক্ষা করুন
ডিম ভাঙার পরও সতেজতা যাচাই করা যায়।
- টাটকা ডিমের কুসুম গোল ও উঁচু থাকে এবং সাদা অংশ ঘন হয়ে কুসুমের চারপাশে থাকে।
- পুরোনো ডিমের কুসুম চ্যাপ্টা হয়ে যায় এবং সাদা অংশ অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়ে।

গন্ধ পরীক্ষা
ডিম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে যদি কোনো তীব্র বা দুর্গন্ধ বের হয়, তাহলে সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। এমন ডিম কখনোই খাওয়া উচিত নয়।
ডিম সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম
ডিম দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত। সাধারণত ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় রাখা হলে ডিম কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে ফ্রিজে রাখলেও ব্যবহারের আগে সতেজতা পরীক্ষা করে নেওয়া উত্তম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নষ্ট বা অতিরিক্ত পুরোনো ডিম খেলে খাদ্যবিষক্রিয়া, পেটের সমস্যা এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই রান্নার আগে কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে ডিম পরীক্ষা করাই নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।