দেশ গঠনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে: ঢাবি উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূলবোধসম্পন্ন দেশ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার (৭ নভেম্বর) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন-সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশন, কর্মচারী সমিতি, কারিগরী কর্মচারী সমিতি ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন। এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অ্যালামনাইবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশের সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সকল চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছিল। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের ক্ষুদ্র ব্যক্তি-স্বার্থ পরিহার করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা দেয়। এই দিবসের তাৎপর্য অনুধাবন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম দিবসটির ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বলেন, এর মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন হয় এবং উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনা হয়।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য অনুধাবন করে আধিপত্যবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো- উপাচার্য ভবন-সহ সকল হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ-সহ সকল হল/হোস্টেল এবং আবাসিক এলাকার মসজিদে মিলাদ-মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভা।
ভোরের আকাশ/আ.র