শিরোনাম
সরানো হলো এসআরবি প্রধানকেনারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভদুই মহাসড়ক অচল: শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-সংঘর্ষ, আহত ৩০পদ্মা-যমুনায় দ্বিতীয় সেতু ও ব্যারেজ নির্মাণ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরচারদিন গ্যাস বন্ধের খবর গুজব: পেট্রোবাংলাশাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ আদালতেরগ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রীনেপালে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ভারতীয় নাগরিক নিহতসরানো হলো এসআরবি প্রধানকেনারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভদুই মহাসড়ক অচল: শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-সংঘর্ষ, আহত ৩০পদ্মা-যমুনায় দ্বিতীয় সেতু ও ব্যারেজ নির্মাণ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরচারদিন গ্যাস বন্ধের খবর গুজব: পেট্রোবাংলাশাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ আদালতেরগ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রীনেপালে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ভারতীয় নাগরিক নিহত

প্লাস্টিকের দাপটে অস্তিত্ব সংকটে চরফ্যাশনের বাঁশশিল্প

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

একসময় গ্রামীণ জনপদের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল বাঁশের তৈরি নানা সামগ্রী। মাছ ধরার ফাঁদ থেকে শুরু করে শস্য সংরক্ষণ, ঝাড়াই-বাছাই ও গৃহস্থালির কাজে বহুল ব্যবহৃত হতো এসব পণ্য। সময়ের পরিবর্তনে প্লাস্টিকের সহজলভ্যতা ও কম দামের কারণে বাঁশের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কমছে। 

অন্যদিকে বাঁশের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় ও পুঁজি সংকটে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে ভোলার চরফ্যাশনের ঐতিহ্যবাহী বাঁশের কুটিরশিল্প এখন টিকে থাকার লড়াই করছে।

চরফ্যাশন পৌরসভার কালীবাড়ি গেটসংলগ্ন সদর সড়কে সারি সারি সাজানো রয়েছে বাঁশের তৈরি নানা সামগ্রী। মাছ ধরার চাই, পলো, কুলা, চালুনি, ঝুড়ি, ডালা, ডুলা, মুরগি ও পাখির খাঁচা, চাটাই, মোড়াসহ গৃহস্থালির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। গ্রামীণ জনপদে এখনো এসব পণ্যের ব্যবহার থাকলেও প্লাস্টিকের বিকল্প পণ্যের দাপটে আগের মতো ক্রেতা মিলছে না।

ব্যবসায়ীরা জানান, আগের তুলনায় বাঁশের দাম, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। ফলে পণ্য তৈরির খরচও বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্তু বাজারে প্লাস্টিকের সস্তা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিক্রি অব্যাহত থাকলেও লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

সদর সড়কের বাঁশপণ্যের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, ‘আগের চেয়ে এখন বাঁশ কিনতে অনেক বেশি টাকা লাগে। পরিবহন খরচও বেড়েছে। কিন্তু ক্রেতারা বেশি দাম শুনলে পণ্য কিনতে চান না। সব খরচ বাদ দিয়ে আগের মতো লাভ করা এখন কঠিন।’

আরেক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাজারে প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী সহজেই পাওয়া যায়। দামও তুলনামূলক কম। এ কারণে অনেক ক্রেতা সেদিকে ঝুঁকছেন। অথচ বাঁশের পণ্য তৈরি করতে শ্রম ও সময় দুটোই বেশি লাগে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েই লাভ কম রেখে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।’

ব্যবসায়ী কামাল বলেন, ‘এই ব্যবসার আয় দিয়েই আমাদের সংসার চলে। কিন্তু পুঁজি কম থাকায় বেশি পণ্য কিনে মজুত রাখা সম্ভব হয় না। সহজ শর্তে ঋণ এবং বাঁশের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসাটি ভালোভাবে চালানো যেত।’

ক্রেতাদের মধ্যেও বাঁশের পণ্য নিয়ে রয়েছে আগ্রহ। তবে দাম ও প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করে অনেকেই কেনাকাটা করছেন।

ক্রেতা শাহেব আলী বলেন, ‘বাঁশের তৈরি পণ্য গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। মাছ ধরার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন কাজে এখনো এসব পণ্যের প্রয়োজন রয়েছে। তবে দাম সাধ্যের মধ্যে থাকলে মানুষ আরও বেশি কিনবে।’

ক্রেতা মো. রায়হান বলেন, ‘প্লাস্টিকের অনেক পণ্য কম দামে পাওয়া যায় বলে মানুষ সেগুলোর দিকে ঝুঁকছে। তবে বাঁশের পণ্যের আলাদা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে পণ্যের মান ভালো রাখার পাশাপাশি দামও ক্রেতাদের নাগালে রাখতে হবে।’

শিল্প উদ্যোক্তা হেমায়েত উদ্দিন গোলাপ বলেন, বাঁশের তৈরি পণ্য গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ শিল্পের সঙ্গে স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী ও কারিগরের জীবিকা জড়িত। বাঁশের পণ্যের ব্যবহার ধরে রাখা গেলে কর্মসংস্থান রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহারও বাড়বে।

আরও পড়ুন

হাজিরা দিয়ে বের হতেই ফের গ্রেপ্তার আ.লীগ নেতা রাসেল

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাঁশের পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি ও প্রচার বাড়ানো গেলে ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।

চরফ্যাশনের কালীবাড়ি গেটসংলগ্ন সদর সড়কে সাজানো বাঁশের পণ্যগুলো এখনো গ্রামীণ ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাওয়া বাজারব্যবস্থায় এ শিল্প কত দিন টিকে থাকতে পারবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে হারিয়ে যেতে পারে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই কুটিরশিল্প।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: