রূপগঞ্জে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপনে ১০ যুবক অপহরণ, গ্রেপ্তার ২

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অনলাইনে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে ১০ চাকরিপ্রত্যাশী যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। একই সঙ্গে অপহৃত ১০ ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নারায়ণগঞ্জের একটি দল গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রূপগঞ্জের রূপসী (কলাবাগান) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চক্রের মূলহোতা সিরাজুল ইসলাম (২৯), পিতা মৃত আখলান মিয়া, ছুপবাড়ি, থানা-চন্দনাইশ, জেলা-চট্টগ্রাম এবং অমিত হাসান (২৩), পিতা আব্দুল মান্নান, চলিতাবাড়ি, থানা-রাজাপুর, জেলা-পটুয়াখালী।
র্যাব জানায়, একটি সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘যে কোনো শপিংমলে সেলসম্যান’ পদে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশী যুবকদের রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার উত্তর রূপসী (কলাবাগান) এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আসত। সেখানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রসেসিং ফি বাবদ ৭ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। এভাবে মোট ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব।
র্যাবের দাবি, পরে চাকরি না দিয়ে ভিকটিমদের ওই বাসায় তিন থেকে চার দিন আটকে রাখা হতো। তাদের খাবার ও পানি না দিয়ে নির্যাতন করা হতো। ভিকটিমরা খাবার চাইলে কিংবা সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে আসামিরা তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিমদের উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় র্যাব-১১। অভিযানে দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র এএসপি ও ফোর্স কমান্ডার মো. মাহমুদুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতায় র্যাব জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা