হুমকির মুখে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য
ভারসাম্য রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : জেলা প্রশাসক

দেশের দ্বিতীয় মিঠাপানির জলাভূমি, ওয়ার্ল্ড রাসার হেরিটেজ সাইট, মাদার ফিসারিজ, গাছ-মাছ পাখিদের অভয়ারণ্য, প্রায় ২০ হাজার হেক্টর আয়তনের নীল জলের দিগন্ত সারিসারি হিজল-করচ, নল খাগড়া ও চইল্যা বনের বিশাল সমারোহে ভরপুর, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও পার্শ্ববর্তী মধ্যনগর উপজেলার আংশিক নিয়ে বিস্তৃত টাঙ্গুয়ার হাওর।
এই হাওরের বিস্তীর্ণ নীল জলরাশি, পরিযায়ী পাখি, শতাধিক প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, হিজল-করচ, নল খাগড়া এবং চইল্যা বনের বিশাল সমারোহ দেখতে, প্রতি বছর দেশ/বিদেশের লাখো প্রকৃতিপ্রেমীদের সমাগম হয়। কিন্তু বর্তমানে এই হাওরতির, সংবেদনশীল পরিবেশ- প্রতিবেশ বিলুপ্তপ্রায়।
সম্প্রতি হাওরটির জলজ উদ্ভিদ এবং বিপন্ন মৎস্যসম্পদ রক্ষায়, কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার সকালে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘টাঙ্গুয়ার হাওর সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন, পরীক্ষণ কমিটির এক সভা অনুষ্টিত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর কেবল সুনামগঞ্জের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের এক অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এই হাওরের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় জনগোষ্ঠী, প্রশাসন ও পর্যটকদের সমন্বিত সচেতনতাই পারে এই হাওরকে রক্ষা করতে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায়, হাওরের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন অবস্থা দূরকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক এবং রেঞ্জ বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দীন, পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি বাহলুল বখত, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, হাউস-এর নির্বাহী পরিচালক সালেহিন চৌধুরী শুভ, সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসার, বাসস জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আমিনুল হক, টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি বজলুর রহমান, সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম এবং বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস-এর সমন্বয়কারী সাইফুল চৌধুরী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হাওরটিতে অবাধে অবৈধ সরঞ্জাম দিয়ে মাছ শিকার এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন ব্যবস্থার কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরের মূল প্রাণশক্তি ও জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে।
সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে, হাওরটিকে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জন্য, অবিলম্বে মৎস্য অভয়াশ্রম এলাকাগুলোতে সর্বদা পাহারার আওতায় আনা এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং চায়না দুয়ারীসহ সকল ধরনের অবৈধ মাছ ধরার যন্ত্র অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে জানানো হয়, নিয়মিত টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে এবং স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা হবে।
ভোরের আকাশ/রই