বাউফলে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়নে মতবিনিময়

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে পটুয়াখালীর বাউফলে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, পিছিয়ে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি এবং কালাইয়া রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসার জন্য নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলার কালাইয়া রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি গাজী মো. গিয়াসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সদস্যসচিব প্রকৌশলী শোয়েব বাশরি হাবলু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শোয়েব বাশরি হাবলু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের আবারও শিক্ষার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, কালাইয়া রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ জন্য ভবনটি চারতলা করার অনুমোদন পেতে প্রকৌশলী শোয়েব বাশরি হাবলুর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের লক্ষ্যেই শোয়েব বাশরি হাবলুকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। শুধু এই মাদ্রাসা নয়, বাউফলের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও গিয়ে সেগুলোর সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাউফলের বর্তমান সংসদ সদস্য বিরোধী দলে থাকায় সব উন্নয়ন চাহিদা পূরণে উদ্যোগ নেওয়া কঠিন হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। শোয়েব বাশরি হাবলু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ করলে মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় জিয়া গবেষণা পরিষদের সভাপতি আনিচুর রহমান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল হাইসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাফল্য নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।