৪০ হাজারে বিক্রি, ১১ মাসের শিশু ফাতেমা উদ্ধার; আটক ৩

মায়ের কোলেই থাকার কথা ১১ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতের। অথচ অভিযোগ উঠেছে, মাদকাসক্ত বাবা হামিদুল মিয়া তাকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। প্রায় দুই মাস পর অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও এক নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ। পরে ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে ফাতেমাকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে ১১ মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমাকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বাবা হামিদুল মিয়া। এরপর বাবা ও সন্তান আর বাড়িতে ফেরেননি। গাইবান্ধা পৌর শহরের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছিল মা রুমানা আক্তারের।
রুমানার অভিযোগ, ঘটনার দুই দিন পর হামিদুল ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ওই টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর বন্ধ হয়ে যায় হামিদুলের মোবাইল ফোন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করা নিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সন্তান জন্মের পর পরিস্থিতির অবনতি হলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান রুমানা। পরিবারের অভিযোগ, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে নিয়ে যান হামিদুল।
ডিবি পুলিশ জানান, রবিবার সকালে সারবাজার এলাকা থেকে হামিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ছোট ওমরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাসের হেলপার মজিদকে আটক করা হয়। এরপর ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকা থেকে মোছা. মোরশেদাকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, মোরশেদার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলছড়ির মদনেরপাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই ১১ মাস বয়সী ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছিল। তবে হামিদুল ওই টাকার পুরোটা পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। শিশুটির পরিবারের দাবি, হামিদুল পেয়েছিলেন ৩১ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় শিশুটিকে কোথায়, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার বলেন, 'উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের উৎকণ্ঠার পর অবশেষে মায়ের কোলে ফিরেছে ছোট্ট ফাতেমা। নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে বাবার আটকের ঘটনায় এলাকায়ও সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। এখন তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পুরো রহস্য এবং জড়িত অন্যদের পরিচয় বেরিয়ে আসার অপেক্ষা।
ভোরের আকাশ/এম