দিনাজপুর এর বালুবাড়ী শ্রী শ্রী নিমকালী মন্দির পরিদর্শন করলেন ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার

শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজরদারি এবং যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উত্তর পশ্চিম রিজিয়ন, রংপুর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৭৩১টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১৬৪টিসহ মোট ৮৯৫টি পূজামণ্ডপে মোট ১৩৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তন্মধ্যে দিনাজপুর সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১৬৯টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৪১টিসহ মোট ২১০টি পূজামণ্ডপে ৩১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৯৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ০২-০৩ কিলোমিটারের এর মধ্যে দিনাজপুর শহর এলাকায় ২২টি, দিনাজপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় ২৩টি এবং ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্ত এলাকায় ৪১টিসহ মোট ৮৬টি পূজামণ্ডপে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোন ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে না পারে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন যেন তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে সম্পন্ন করতে পারেন। উল্লেখ্য, আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন।
ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ক্ষেত্রে তিনি গুজবে কান না দেয়া, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কোনো বিষয় নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সকলকে আহবান জানান।
এছাড়াও তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। আসুন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলি। এ সময় লেঃ কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান, অধিনায়ক ও সহকারী পরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান, দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি), পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিপ্লব সরকার, সেক্রেটারী প্রদীপ চন্দ্র দাস, স্থানীয় গন্যমান্যব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল ভাইবোনকে শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। সবার জীবন আনন্দ, শান্তি ও সম্প্রীতিতে পরিপূর্ণ হোক।
ভোরের আকাশ/এনএস