সিলেটে বাড়িভাড়ার নৈরাজ্য, সেবা ছাড়া সার্ভিস চার্জ ভোগান্তি

সিলেটে দিন দিন বাড়ছে বাড়িভাড়া। কোনো কোনো এলাকায় গত এক দশকে বাসাভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভাড়াটিয়ারা। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিলেটের আবাসন ব্যয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সার্ভিস চার্জের বাড়তি চাপ।
ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা না দিয়েও কোনো কোনো আবাসিক ভবনে মাসে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ আদায় করা হচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের চাকরিজীবী, মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
ভাড়া বাড়লেও মিলছে না মানসম্মত বাসা
ভাড়াটিয়াদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগেও যে তিন বেডরুমের বাসা ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া পাওয়া যেত, বর্তমানে কোনো কোনো এলাকায় সেই বাসার ভাড়া ২৫ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। একইভাবে দুই বেডরুমের বাসার ভাড়াও অনেক ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য আবাসন ব্যয় বহন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ঢাকা থেকে সিলেটে আসা আনজুম লুবাবা জানান, নগরের মধুশহীদ এলাকায় দুই বেডরুমের একটি ছোট বাসা তাঁকে ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিতে হয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বাসাটি ঢাকায় তাঁর আগের বাসার তুলনায় প্রায় ৩০০ বর্গফুট ছোট।
ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, বাড়িভাড়া বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে বাসার আয়তন, নির্মাণমান ও সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে ভাড়ার সামঞ্জস্য থাকছে না। ফলে বাড়তি অর্থ দিয়েও প্রত্যাশিত আবাসনসুবিধা পাচ্ছেন না তাঁরা।
সেবা ছাড়াই সার্ভিস চার্জ আদায়ের অভিযোগ
বাসাভাড়ার পাশাপাশি সার্ভিস চার্জ নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে ভাড়াটিয়াদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, কিছু আবাসিক ভবনে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তারপরও নিয়মিত সার্ভিস চার্জ দিতে হচ্ছে। এতে মূল ভাড়ার বাইরে প্রতি মাসে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
তবে এসব অভিযোগের ব্যাপকতা এবং সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর প্রকৃত সেবার মান স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সার্ভিস চার্জের পরিমাণ নির্ধারণ, এর বিপরীতে কী কী সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভাড়াটিয়ারা।
আইন থাকলেও প্রতিকারের অপেক্ষা
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এ বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের বিধান রয়েছে। তবে ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, অনেক বাড়ির মালিক প্রতিবছর ভাড়া বাড়ান। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো ভাড়াটিয়াকে বাসা ছেড়ে দিতে বলে নতুন ভাড়াটির কাছে বেশি ভাড়া দাবি করা হয়।
ভাড়াটিয়াদের মতে, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন এবং সার্ভিস চার্জ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া—উভয়ের অধিকার সুরক্ষায় বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ভাড়া নির্ধারণ ও সার্ভিস চার্জ নিয়ে উদ্যোগের আশ্বাস
বিষয়টি নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন এলাকায় বাড়িভাড়ার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। সেবা না দিয়ে সার্ভিস চার্জ আদায়ের অভিযোগও তাঁরা দেখবেন বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সিলেটে বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ভাড়ার চুক্তি যথাযথভাবে অনুসরণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় বাড়তি আবাসন ব্যয়ের চাপে সাধারণ ভাড়াটিয়াদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা