ফেনীর মহিপালে প্রবাসীর স্ত্রীকে বাথরুমে আটকে ১৫ মিনিটে দুর্ধর্ষ চুরি

ফেনীর মহিপালে বাসায় ঢুকে এক গৃহবধূকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে দুই সদস্যের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ঘটনার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে লুট করে পালিয়ে যায় তারা।
শহরের মহিপাল মুসলিম ভূঁইয়া বাড়ির রেহান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় প্রবাসী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামানের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহানা আক্তারের দাবি, ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে নগদ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১২-১৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় দুই ব্যক্তি।
বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে টি-শার্ট ও নীল ক্যাপ পরা এক ব্যক্তি এবং কাঁধে ব্যাগ নিয়ে সাদা টুপি ও শার্ট পরা আরেক ব্যক্তি রেহান ম্যানশনের সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠেন।
ফুটেজ অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে তারা বাসার সামনে গিয়ে কলিংবেল চাপেন। শাহানা আক্তার দরজা খুললে টুপি পরা ব্যক্তি দ্রুত তার মুখ চেপে ধরে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান।
পরে ওই দুই ব্যক্তিকে বাসার ভেতরে প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে তাদের বাসার দরজা খুলে বের হতে দেখা যায়। ৮টা ৫৫ মিনিট ২১ সেকেন্ডে তারা ভবনটি থেকে বের হয়ে যান।
ভুক্তভোগী শাহানা আক্তার বলেন, দুই ব্যক্তি বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তার মুখ চেপে ধরেন এবং তাকে বাথরুমে আটকে রাখেন। ঘটনার সময় তার ছেলে স্কুলে থাকায় তিনি বাসায় একাই ছিলেন।
তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিরা তার সন্তানকে বাসার নিচে জিম্মি করে রাখার কথা জানিয়ে ভয় দেখান। পরে ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা চলে যান। বাথরুমে আটকে থাকা অবস্থায় চিৎকার করলে পাশের বাসার এক প্রতিবেশী এগিয়ে এসে দরজা খুলে তাকে বের করেন। পরে ঘরে গিয়ে তিনি দেখেন, বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে আছে।
শাহানা আক্তারের দাবি, বাসা থেকে নগদ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১২-১৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে চক্রটি। বাড়ির নির্মাণকাজের জন্য প্রায় এক মাস আগে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাসায় রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, তার বোনের প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার একটি কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় ঘরে ছিল। চোরেরা সেগুলো দেখতে না পাওয়ায় তা রয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে স্বর্ণালংকারগুলো উদ্ধার করে তার কাছে হস্তান্তর করে।
শাহানা আক্তার বলেন, তার স্বামী সৌদি আরবে থাকেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পর পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অলি আহাদ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সেগুলো গৃহবধূর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাসায় বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার থাকার তথ্য জানতেন এমন কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ