সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ সময়মতো চিকিৎসক উপস্থিত না থাকার অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে চিকিৎসকদের চেম্বারে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ চিকিৎসক সকাল ১০টার পর হাসপাতালে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন চেম্বারের সামনে দীর্ঘ লাইনে রোগী সিরিয়াল নম্বর হাতে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসকের অপেক্ষায় বসে আছেন।
অনেকেই সকাল ৮টা থেকেই হাসপাতালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও অধিকাংশ চেম্বার ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওই সময় পর্যন্ত মাত্র দুইজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে একজন জরুরি বিভাগে এবং একজন বহির্বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নির্ধারিত সাতজন চিকিৎসকের মধ্যে ছয় জন অনুপস্থিত থাকায় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটেও চেম্বারে রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় এবং তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতকানিয়া উপজেলা-এর ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, রোগীদের সঙ্গে অবহেলাপূর্ণ আচরণ এবং সেবার মান নিম্নমুখী হওয়ায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা কাঞ্চনা এলাকার ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“সকাল ৯টা থেকে এসে বসে আছি। শরীর খারাপ নিয়ে এতক্ষণ অপেক্ষা করছি, কিন্তু এখনো ডাক্তারের দেখা পাইনি। গরিব মানুষ কোথায় যাবে?”
আরেক রোগীর স্বজন জানান, সকালে সিরিয়াল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগী বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে চলে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,এ বিষয়ে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“এখানে সাধারণত চিকিৎসকরা সকাল ১০টার দিকে চেম্বারে বসেন।”
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. এ.টি.এম. মনজুর মোর্শেদ -এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু আজ কেন উপস্থিত ছিলেন না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাওয়া হবে।”
তার অফিস বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,“আমি সকালে এসেছিলাম। তখন অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম"।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি আমি গুরুত্বসহকারে দেখছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চিকিৎসকদের হাসপাতালে উপস্থিত থাকার কথা। অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। যদি দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভোরের আকাশ/এনউব