ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে পরিবেশ-বন ও জলবায়ুমন্ত্রীসহ চার এমপি

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ-বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ ফেনীর চার সংসদ সদস্য। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল পরিদর্শনকালে জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।
হাসপাতাল পরিদর্শনে মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে ছিলেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, ব্যবস্থাপনা, জনবল, যন্ত্রপাতি ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ-বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে যদি ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকেন, তাহলে সেই অনুযায়ী জনবল ও প্রয়োজনীয় মেশিনারি সাপোর্ট থাকা দরকার। কিন্তু এখানে জনবল ও অন্যান্য সহায়ক ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলা হবে।
ফেনীতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ বিষয়। সরকার এ সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। তবে জনগণের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই মুহূর্তে চিকিৎসক ও নার্সের পাশাপাশি পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও জনবল প্রয়োজন।
হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়ে মিন্টু বলেন, হাসপাতালে কতজন রোগী আসেন, তাদের কী ধরনের সমস্যা, ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অনুমোদিত জনবল কাঠামোর বিপরীতে কতজন কর্মরত এবং কতটি পদ শূন্য রয়েছে—এসব তথ্য দিতে তত্ত্বাবধায়ককে বলা হয়েছে। এসব তথ্য পাওয়ার পর ফেনীর চার সংসদ সদস্য একত্র হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন। হাসপাতালের সমস্যা সমাধান ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন বলেন, ফেনী জেনারেল হাসপাতালকে ৮০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখানে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি এটি বাস্তবায়নের কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে যেসব সমস্যা রয়েছে, চার সংসদ সদস্য মিলে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। মানুষ যাতে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু বলেন, এ হাসপাতালে নার্স ও চিকিৎসকদের রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ পুরোনো। মানুষ এখানে সেবা নিতে আসেন। তাই রোগীদের সংকট বা অভিযোগের জন্য দায়ী না করে সেবার মান বাড়ানোর দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘রোগীরা হাসপাতালে কী ধরনের সংকট আছে, সেটি বুঝবেন না। তারা সেবা নিতে আসেন। তাই রোগীদের বিরুদ্ধে কথা না বলে সেবার মান বাড়াতে হবে।’
মজনু আরও বলেন, তিনি সময় পেলেই হাসপাতালে পরিদর্শনে আসবেন। সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে প্রয়োজনে ছোটখাটো সমস্যাগুলো নিজস্ব অর্থায়নেও সমাধানের চেষ্টা করবেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলে আসছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং জনগণের কাছে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি করতে হয়। একইভাবে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে।
তিনি চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
রানু বলেন, বর্তমানে কর্মরতদের আচরণে অনেক সেবাপ্রত্যাশী ক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। সেবার মান ঠিক রাখা ও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
এ সময় ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামানসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা