সাফলাবাড়ী লক্ষীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির পরিচিতি ও উন্নয়ন সভা

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সাফলাবাড়ী লক্ষীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির পরিচিতি ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭সেপ্টেম্বর) বিকেল ২টায় বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ সভ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির গোপালপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. জোবায়েরুল হক আমিন, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও অনলাইন জুয়ার কুফল সম্পর্কে সচেতন করেন।
তিনি বলেন, মাদক একজন শিক্ষার্থীর জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিতে পারে। মাদকের পাশাপাশি বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনেক ভালো কাজ করা সম্ভব হলেও এর অপব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত বিচরণ এবং অনলাইন জুয়ার মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। অনলাইন জুয়া একজন শিক্ষার্থীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির পাশাপাশি তার ভবিষ্যৎও বিপন্ন করতে পারে।
ওসি রুহুল আমিন আরও বলেন, বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালীন কোনো বহিরাগত ব্যক্তি বা শিক্ষার্থী কোনো ধরনের উৎপাত বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এডহক কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তিনি সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাবেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মাঠ ও অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত হলরুম ও কমনরুমেরও প্রয়োজন রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে বিদ্যালয়ের মাঠ সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য নিজের তহবিল থেকেও সহযোগিতা করার ঘোষণা দেন তিনি।
সভায় বক্তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মাদক ও অনলাইন আসক্তি থেকেৃ শিক্ষার্থীদের দূরে রাখা এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব