শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ২:০২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলাফলের আশায় দিনরাত পড়াশোনা করে নিজেকে প্রস্তুত করেছে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েমাহ্ আক্তার স্নেহা। কিন্তু তার পরিশ্রম আর সফল হলো না। স্নেহার মতো একই পরিণতি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ থেকে ১০জন ছাত্রীর।

অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের গাফিলতির কারণে বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রায় ১০ বছর পর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তারা ৪-৫ মাস থেকে পরীক্ষার জন্য সন্তানদের প্রস্তুত করছিলেন। শ্রেণি শিক্ষক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক মেয়েদের নামও সংগ্রহ করেন। পরে জানা যায়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশনই করেনি। ফলে মেধা যাচাইয়ের এ গুরুত্বপূর্ণ ধাপে অংশ নেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো তারা।

মাহামুদা আক্তার শিল্পী নামে এক অভিভাবক এরই মধ্যে এঘটনায় জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে একটি অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, শিক্ষাবোর্ড থেকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নাম নিবন্ধনের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বা কোনো শিক্ষক কর্মচারী বিষয়টি অভিভাবকদের অবগত করেননি। এমনকি বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে বা শ্রেণিকক্ষে কোনো নোটিশ দেননি। ফলে শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকরা এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারেননি।

তার অভিযোগ, বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তাকে জানান, শিক্ষাবোর্ডে যোগাযোগ করে তাদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু পরে আর এ ব্যাপারে তাকে কিছুই জানানো হয়নি।

বিদ্যালয়ের আরেক অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় ছিল এই বৃত্তি পরীক্ষা। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এই বিদ্যালয়ের ৮-১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে পারছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে হলো। এর দায়ভার অবশ্যই প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।

আরেক শিক্ষার্থীর মা পারভিন বেগম বলেন, আমার মেয়ে খুবই ভালো ছাত্রী, সে পঞ্চম শ্রেণিতেও বৃত্তি পেয়েছে। আশা করেছিলাম এবারও বৃত্তি পাবে। কিন্তু তাদের গাফিলতির কারণে মূলত আমার মেয়েটা বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারলো না। তাদের শাস্তি হওয়া দরকার। এমন ভুল যেন আর না হয়।

বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী জান্নাতী বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে আগে শ্রেণিকক্ষে আমাদের নোটিশ পড়ে শোনানো হতো। কিন্তু এবার তা করা হয়নি। এটি কেন করা হলো না, আমাদের জানা নেই। আমার স্বপ্ন ছিলো বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের মেধা যাচাই করবো। কিন্তু হেড স্যারের গাফিলতির কারণে তা আর হয়ে উঠলো না। একই অভিযোগ করেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুশফিরাত, জিসা, তানসির, রোশনি, আরোবী, ইমা, রুমাইয়া।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, আমি অফিস সহকারীকে বলেছিলাম নোটিশ করে দেন, দেরি হয়ে গিয়ে। পরে আর দেওয়া হয়নি। আমি নিজেই বোর্ডে গিয়েছিলাম এ ব্যাপারে। হঠাৎ করে আসছে তো সেজন্য কাজটা হয়নি।

তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে অভিভাবকের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করার বিষয়টি জেনেছি। সময় মতো জবাব দেব সেখানেই।

কথা হয় বিদ্যালয়ের সভাপতি আঃ সালাম শেখের সঙ্গে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তিনি ভুল স্বীকার করে বললেন, আমি নিজেও বোর্ড গিয়েছিলাম, যোগাযোগ করেছি। মূলত সে সময় পূজার বন্ধ ছিল, তা ছাড়া ৮ম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ব্যস্ত ছিল নাকি তারা। তা ছাড়াতো ফোন দিয়েও অভিভাবকদের বলা যেতে কিন্তু তারা এটিও করে নাই।

এসব বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান বলেন, ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক মাহমুদা আক্তার শিল্পী এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি আমি তদন্তে করে দেখবো। আসলে কি ঘটনা ঘটেছে, দেখার পরই বলা যাবে কোনটা সত্য।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করীম চৌধুরী মুঠোফোনে ভোরের আকাশের প্রতিবেদককে জানান, এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার সাথে যোগাযোগ করেননি। গত ২০ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধনের সময় ছিলো। এখন আর নিবন্ধনের কোনো সুযোগ নেই।

ভোরের আকাশ/মো.আ.

প্রধান শিক্ষকবৃত্তি পরীক্ষাগাইবান্ধা

শেয়ার করুন: