চরফ্যাশনে জরাজীর্ণ মসজিদ পুনর্নির্মাণ করে দিলেন সৌদি নাগরিক

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার প্রত্যন্ত এওয়াজপুর গ্রামে জরাজীর্ণ একটি মসজিদ পুনর্নির্মাণে এগিয়ে এসেছেন সৌদি আরবের নাগরিক মতিব আল-মুতারি। মসজিদটির পুনর্নির্মাণ থেকে শুরু করে টাইলস, গ্লাস, দরজা-জানালা, এসি ও টিউবওয়েল স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে অর্থ সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর এমন উদ্যোগে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম এওয়াজপুর শেখ বাড়ির দরজায় অবস্থিত মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা মসজিদটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও অর্থসংকটে কাজ শেষ করতে পারছিলেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, মসজিদটির পুনর্নির্মাণকাজ শুরু করতে গিয়ে এলাকাবাসী ধারদেনা করে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। এতেই তারা দুই লক্ষ টাকার ঋণ নেয়।
কিন্তু পরবর্তী কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না হওয়ায় নির্মাণকাজ থমকে যায়। পরে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে সৌদি আরবপ্রবাসী ও এওয়াজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেনের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি তাঁর সৌদি নাগরিক মালিক মতিব আল মুতারিকে জানান। মসজিদ ফান্ডে অর্থ সহায়তার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মসজিদটির পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তাঁর ছেলে খালেদের মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সৌদি নাগরিক মতিব আল মুতারি মসজিদটির পুনর্নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটি তাঁর প্রস্তাবে সম্মতি জানানোর পর পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
মসজিদটিতে টাইলস, গ্লাস, দরজা-জানালা, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও টিউবওয়েল স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌদি নাগরিকের এমন মানবিক ও ধর্মীয় উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সৌদি আরবপ্রবাসী মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমার মালিক মতিব আল-মুতারী খুবই ভালো মানুষ। তিনি সব সময় ধর্মীয় কাজে দান করেন। আমাদের এই মসজিদসহ একসঙ্গে তিনটি দেশে তিনটি মসজিদ নির্মাণের কাজ করছেন তিনি। সৌদি নাগরিক মতিব আল মোতারি ও তাঁর পরিবারের সবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। তাঁরা যেন সুস্থ থাকেন এবং ভবিষ্যতেও আরও মসজিদ নির্মাণসহ ধর্মীয় ও মানবিক কাজে অংশ নিতে পারেন।’
মসজিদটির ইমাম মাওলানা ফোরকানুল ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর নবীর দেশের একজন মানুষের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যন্ত গ্রামে দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। মসজিদটি নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাঁদের এই দান কবুল করেন।’
মসজিদ পুনর্নির্মাণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় সৌদি নাগরিক মতিব আল মুতারি, তাঁর পরিবার এবং প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তাঁদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করেছেন তাঁরা।
ভোরের আকাশ/সু.পা