জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত অনিক, সহযোগিতার আকুতি পরিবারের

একসময় নিজের উপার্জনে পরিবারকে স্বচ্ছল করার স্বপ্ন দেখতেন গাইবান্ধার যুবক মো. অনিক। ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেমে গেছে তাঁর কর্মজীবন। এখন চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে অনিক ও তাঁর পরিবারের।
অনিক গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালি ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় তাঁর প্রস্রাবের সঙ্গে ময়লা বের হওয়া ও প্রস্রাবের সময় ব্যথা অনুভূত হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে শারীরিক সমস্যা আরও জটিল হয়। একপর্যায়ে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তও আসতে থাকে।
পরে গাইবান্ধায় চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনিকের হাইড্রোইউরেটারোনেফ্রোসিস (Hydroureteronephrosis) শনাক্ত হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বারডেম ও জাতীয় কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে।
পরিবারের দাবি, অনিকের প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় তা পুরোপুরি শরীর থেকে বের হতে পারছে না। ফলে কিডনিতে চাপ তৈরি হয়ে কিডনি ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তাঁর কিডনির প্রায় ৫০ শতাংশ কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে বলেও জানিয়েছে পরিবার।
অসুস্থতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে অনিকের কর্মজীবন। একসময় নিজের উপার্জনে পরিবারের দায়িত্ব সামলানো এই যুবক এখন নিজের চিকিৎসার জন্য অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। ধারদেনা করার পাশাপাশি পরিবারের সাধ্যমতো অর্থ ব্যয় করেও চিকিৎসার খরচ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনিকের স্বজনরা জানান, তাঁর উন্নত চিকিৎসা জরুরি। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অর্থের অভাবে একটি তরুণ জীবনের স্বপ্ন যেন থেমে না যায়—এমন আকুতি জানিয়েছেন তাঁরা।
অনিকের চিকিৎসার জন্য সরকার, সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তি, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী। তাঁদের আশা, সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে অনিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা