মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগে সম্ভাব্যতা যাচাই

লালমনিরহাটের ঐতিহাসিক মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে তারা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলসহ মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু করা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। কীভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি সচল করা যায়, সে বিষয়ে আমরা সম্ভাব্যতা যাচাই করছি।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এটি যেহেতু একটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্দর, তাই কার্যক্রম শুরু করতে প্রথমেই ভারতের সাথে চুক্তি ও সমঝোতা প্রয়োজন। ভারত সরকার আগ্রহী হয়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হলেই বাংলাদেশ অংশে প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হবে।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই বন্দরটি চালু হলে লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলাগুলোতে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা হবে। বিশেষ করে কর্মহীন ও দরিদ্র মানুষের বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসার লাভ করবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে। বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
একই সময়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর সচল করার ব্যাপারে স্থানীয় মানুষের দাবির সাথে সরকার পুরোপুরি একমত। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এলাকা পরিদর্শন করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। বাংলাদেশের অংশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনবল নিয়োগ দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা সরকারের রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, নদীর ওপর প্রয়োজনীয় সেতু, যোগাযোগ সড়ক, শুল্ক স্টেশনসহ আধুনিক সব সুবিধা গড়ে তোলা হবে। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সচল করতে ভারতের প্রান্তেও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ও পরিচালনার বিষয়ে সমঝোতা জরুরি। ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক অগ্রগতি পেলেই পূর্ণাঙ্গ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/ইউএম