গাইবান্ধা
২৫ বছর ধরে কাঁচা মাছ-মাংস খেয়ে ভাইরাল ‘আজিজ ফকির’

আমরা অভ্যস্ত রান্না করা খাবারেই। মাছ, মাংস কিংবা শাকসবজি সবই আগুনে সিদ্ধ করেই খাই প্রতিদিন।
কিন্তু সেই চিরচেনা খাদ্যাভ্যাসের সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার এক বৃদ্ধের। কাঁচা মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফুল কিংবা লতা-পাতা হাতের সামনে যা পান, তাই অনায়াসে খেয়ে ফেলেন তিনি। আর এই অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাসের কারণেই এলাকায় তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘আজিজ ফকির’ নামে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব কেশলীডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজের বয়স প্রায় ৭০ বছর। বয়সের ভার পড়লেও বদলায়নি তার অভ্যাস। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি নিয়মিত কাঁচা মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে আসছেন। স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি যেমন বিস্ময়ের, তেমনি কৌতূহলেরও।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, কোথাও আজিজ ফকির কাঁচা কিছু খাচ্ছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেই সেখানে ভিড় জমে যায় উৎসুক মানুষের। কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন, কেউ আবার মজা পান তার এমন ব্যতিক্রমী আচরণ দেখে।
জানা গেছে, প্রায় ২৫ বছর আগে পারিবারিক অভিমানে বাড়ি ছেড়ে রংপুরের বদরগঞ্জ এলাকায় চলে যান আব্দুল আজিজ। সেখানে এক তান্ত্রিকের সংস্পর্শে এসে তন্ত্রমন্ত্র শেখেন তিনি। একদিন ওস্তাদের নির্দেশে একটি কাঁচা রুই মাছ খাওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার এই ব্যতিক্রমী খাদ্যাভ্যাস। এরপর ধীরে ধীরে কাঁচা খাবারই হয়ে ওঠে তার নিত্যদিনের সঙ্গী।
বর্তমানে মাছ, মাংস, শাকসবজি থেকে শুরু করে নানা ধরনের খাবারই কাঁচা খেতে দ্বিধা করেন না তিনি। এমনকি কেউ বাজি ধরলেও অনায়াসে কাঁচা খাবার খেয়ে জিতে যান বলেও দাবি করেন আজিজ।
আব্দুল আজিজ বলেন, কাঁচা মাছ-মাংস খেতে আমার অনেক ভালো লাগে। আল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা হয় না। কেউ বাজি ধরলেও খেয়ে ফেলি। তবে পরিবারের মানুষ এসব পছন্দ করে না, তারা বিরক্ত হয়।'
যদিও পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি, তবু স্থানীয়দের কাছে আজিজ যেন এক ভিন্নধর্মী বিনোদনের নাম। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ও হাসিখুশি মানুষ। তার অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাস দেখতে প্রায়ই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাকে হাসিখুশি মানুষ হিসেবে দেখে আসছি। এখন কাঁচা মাছ-মাংস খাওয়ার কারণে আরও বেশি পরিচিত হয়েছেন। শুনলেই মানুষ দেখতে আসে।'
মাছ ব্যবসায়ী লাল বাবু বলেন, আমার কাছে ১কেজির একটা সিলভার মাছে কিনে নিয়েই এখানেই খাওয়া শুরু করেছেন। তিনি বাজারেই যা দেখতে পারেন তাই খান,সেটা মাছ হোক আর মাংস হোক।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এমন অভ্যাস মোটেও নিরাপদ নয়। নিয়মিত কাঁচা মাছ বা মাংস খেলে শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এতে টেপওয়ার্ম বা ফিতা কৃমিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে লিভার, ফুসফুস, চোখ ও মস্তিষ্কে আক্রমণ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ উর রহমান ভোরের আকাশকে বলেন, 'কাঁচা মাছ বা মাংস খাওয়ার ফলে শরীরে নানা ধরনের পরজীবী ও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। এতে জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ ধরনের অভ্যাস থেকে বিরত থাকা উচিত।'
কারও কাছে বিস্ময়, কারও কাছে বিনোদন আব্দুল আজিজের ব্যতিক্রমী জীবনযাপন এখন গাইবান্ধা জেলা জুড়ে আলোচনার বিষয়। তবে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা বলছে, কৌতূহল জাগানো এই অভ্যাস নীরবে ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
ভোরের আকাশ/ র.ই