শিরোনাম
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক

ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৯ আগস্ট ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয় চন্দ্র সরকার (২৩)-এর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

জয় চন্দ্র সরকার দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের কৈবত্যপাড়ার বাসিন্দা। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভারতে অবস্থান করছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে অবস্থিত ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছিলেন তিনি।

পরিবারের ভাষ্য, গত ৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জার থেকে তার বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকারকে একটি বার্তা পাঠানো হয়। ওই বার্তায় জানানো হয়, জয় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

হঠাৎ এমন খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েন। তাদের দাবি, জয়ের আচরণে আত্মহত্যার কোনো পূর্বলক্ষণ তারা কখনো দেখতে পাননি। তিনি নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন ও পড়াশোনা শেষ করে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

নিহতের বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকার বলেন, তার ছেলে মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিল। আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণ বা মানসিক অবস্থার কথা পরিবারের জানা ছিল না। তাই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে এক নারীকে ভারতের বারাসাত থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাখা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো তারা পাননি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় ভারতে যান জয় চন্দ্র সরকার। প্রথমে দিল্লির সারদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন তিনি। পরে বিষয়টি পছন্দ না হওয়ায় ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখানে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জয়ের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পার্বতীপুরের মন্মথপুর কৈবত্যপাড়ায় শোকের আবহ নেমে আসে। স্বজন, প্রতিবেশী ও সহপাঠীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে জয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই জয় চন্দ্র সরকার শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে পরিবার ও দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন ছিল তার।

ঘটনার বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

জবিতে প্রথম বর্ষের ভর্তি আবেদন শুরু ১৫ নভেম্বর

এদিকে জয়ের পরিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জয় চন্দ্র সরকারের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতে থাকা তার সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবারের প্রত্যাশা, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটিত হবে।

ভোরের আকাশ/জেআ

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরহস্যজনক মৃত্যু

শেয়ার করুন: