দুদকের নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামানের কর্মজীবন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট সরকার তাকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৯ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের জন্ম ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ। তিনি নওগাঁর সাপাহার উপজেলার খঞ্জনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের সমপর্যায়ের বলে সরকারি প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে জানিয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন কমিশন কোনো চাপের মধ্যে নেই এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রত্যয় রয়েছে। তিনি দুদকের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের কথাও জানান। এছাড়াও তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজের প্রত্যয়, আলোচনায় দুদকের নতুন চেয়ারম্যান, এ কে এম আসাদুজ্জামান তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, দুদকের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার এসব বক্তব্যের পর দুদকের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে গত ১৭ আগস্ট দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান জাহাঙ্গীর আলম খান ও মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। ১৮ আগস্ট তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এবং পরদিন দুদকে প্রথম কার্যদিবস শুরু করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন কমিশন কোনো চাপের মধ্যে নেই এবং তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, দুদকের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা এবং দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করার কথাও জানান তিনি।
দীর্ঘ বিচারিক কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে দুদকের নেতৃত্বে আসা বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের সামনে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগের গুরুত্ব দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নতুন কমিশন কীভাবে এসব দায়িত্ব বাস্তবায়ন করে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।
ইতোমধ্যে নতুন কমিশনের অধীনে প্রথম মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের নতুন নেতৃত্বের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নয়, বরং তথ্য-প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও প্রতিকার নিশ্চিত করে কমিশন জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী করবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র