কমলনগরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহে অবহিতকরণ সভা

নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকারঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক অবহিতকরণ সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ ভবনের ‘স্পন্দন’ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে। কমলনগরের হাজিরহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলার বাকী ইউনিয়নগুলোতেও এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ড. জাহিদ হোসেন। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বজলুল করিম।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও রাহাত উজ-জামান মাঠপর্যায়ের কর্মী ও সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা কারো তথ্য বাদ দেব না। কমলনগরের ৫৫ হাজার ১৪১টি পরিবারের প্রত্যেকের কাছেই তথ্য সংগ্রহকারীরা যাবেন। কে কার্ড পাবেন আর কে পাবেন না—সে হিসাব কর্মী বা সাধারণ জনগণের করার প্রয়োজন নেই। আপনারা শুধু সঠিক ডাটা তুলে আনবেন, বাকিটা সিস্টেম অনুযায়ী মূল্যায়িত হবে।
মাঠপর্যায়ে অনেক সময় দেখা যায় বৃদ্ধা মায়ের সাথে ছেলেদের সম্পর্ক ভালো না থাকায় তিনি একাকী ভাঙা ঘরে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন; এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। তথ্যে কোনো ভুল বা স্বজনপ্রীতি যেন না থাকে। এছাড়া অতীতে কার্ড করে দেয়ার নামে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার যে অভিযোগ শোনা যেত, এবার তার কোনো সুযোগ থাকবে না। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বজলুল করিম তার বক্তব্যে বলেন, কমলনগরে সর্বমোট ৫৫ হাজার ১৪১টি পরিবার রয়েছে। সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগে কমলনগরের একটি পরিবারও যেন তথ্য সংগ্রহ থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যে সমাজসেবা কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তথ্য সংগ্রহকারীরা শতভাগ নিষ্ঠার সাথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য নিশ্চিত করবেন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে এ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা ও জনকল্যাণমুখী ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের কল্যাণমুখী এ ধরনের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি প্রকৃত হকদার যেন তাদের অধিকার পান, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সততার সাথে কাজ করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, ১২ অক্টোবর থেকেই দেশব্যাপী একযোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার এতে নিয়োজিত রয়েছেন। সংগৃহীত তথ্য বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে যুক্ত করা হবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারের নারী প্রধানদের ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি সুবিধাসংবলিত বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা সহজে ব্যাংক এটিএম, পিওএস ও এমএফএস (মোবাইল ব্যাংকিং)-এর মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।
চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মসূচির জন্য মোট ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে প্রদান করা হবে।
অবহিতকরণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সাজু। এছাড়া কমলনগরের ৯টি ইউনিয়নের জন্য মনোনীত ৯জন সুপার ভাইজার ও ৭১ জন (নারী ও পুরুষ) তথ্য সংগ্রহকারী সভায় অংশ নেন।
ভোরের আকাশ/আ.র