পানছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির খানা জরিপ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী খানা জরিপ ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় পানছড়ি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা নাসরিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দ্বিপায়ন চাকমা।
প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও পানছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. বেলাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী এবং পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা। এ ছাড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার।
গত ১০ মার্চ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে যোগ্য হিসেবে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জনকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে।
পাইলটিং কার্যক্রমে বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।
গত জুলাই থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বিতরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনায় ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরে এসব তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তথ্য সংগ্রহে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।
নীতিমালা অনুযায়ী, পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম পাওয়া নারী পরিবারপ্রধানেরা ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে ফ্যামিলি কার্ড পেলেও ভাতা দেওয়া হবে প্রথম তিনটি শ্রেণিভুক্ত যোগ্য পরিবারকে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে সব যোগ্য নারীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (NFC) প্রযুক্তির সুবিধা থাকবে। কার্ডটি টাকাপের (TakaPay) পেমেন্ট স্কিমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেল (POS) এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (MFS) মাধ্যমে ভাতার অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা নাসরিন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী খানা জরিপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পানছড়ির সব নাগরিক ও সাংবাদিকদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করলে কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।
দেশব্যাপী এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্যভান্ডার তৈরি এবং যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশের জন্য বিবেচনা করার অনুরোধ করছি। সংবাদ-সংশ্লিষ্ট ছবি সংযুক্ত করা হলো।
ভোরের আকাশ/আ.র