আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওটি চালু হলেও, আশার বদলে হতাশা

দীর্ঘদিন পর নতুন আশা ও উদ্দীপনা নিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওটি (অপারেশন থিয়েটার) পুনরায় চালু হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলের সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। ওটি চালুর পর এ পর্যন্ত মাত্র ৬টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ওটি চালুর উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিন মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও মাত্র ৬টি অপারেশন হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গাইনি চিকিৎসক ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের সংকটের কারণে নিয়মিত অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি হাসপাতালে এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরও সংকট রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পর ওটি চালু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে আশা ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা অনেকটাই থমকে গেছে।৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের পাশাপাশি জেনারেটরের জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় বিদ্যুৎ সমস্যার সময়ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ সমস্যা মোকাবিলায় নিজস্ব উদ্যোগে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ চলছে।
এদিকে হাসপাতালের টিকিটের মূল্য ৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও খুচরা টাকা না থাকায় রোগীদের কাছ থেকে ১০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ৭ টাকার টিকিটের বিপরীতে ১০ টাকা দিতে হচ্ছে, কিন্তু অতিরিক্ত ৩ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রমেলা নামে এক রোগী বলেন, “টিকিটের মূল্য ৭ টাকা হলেও ৩ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। ৭ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা নির্ধারণ করে সরকারি ফান্ডে নেওয়া হলে বিষয়টি পরিষ্কার থাকত। অন্যথায় টিকিটের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী টাকা নেওয়া উচিত।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে পানি সরবরাহ, টয়লেট ও ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়েও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। এসব বিষয়ে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তথ্য দিতে বাধ্য নই। আমি তথ্য দেব একমাত্র কর্তৃপক্ষকে।” তথ্য চেয়ে আবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হলে তিনি জানান, “মন্ত্রণালয় বা সিভিল সার্জন যখন তথ্য দিতে বলবেন, তখন আমি দেব। এর বাইরে নয়।” তথ্যের প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় বরাবর আবেদন করেন।
তবে হাসপাতালের সার্বিক সেবা প্রসঙ্গে ডা. শারমিন আক্তার বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে জনবল সংকটের কারণে সেবার মান বিঘ্নিত হচ্ছে। গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় বর্তমানে ওটি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সমস্যা রয়েছে।পাশাপাশি কাগজে-কলমে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকলেও হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আরও তিনজনকে রাখা হয়েছে এবং তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও উপজেলা শহরের জন্য সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে নিজস্ব অর্থায়নে সোলার প্যানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে কিছুটা সুফল পাওয়া যাবে।
টিকিটের টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোগীদের খুচরা টাকা নিয়ে আসতে বলা হচ্ছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সবার টাকা খুচরা করে দেওয়া সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক,
এক্স-রে টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট দূর, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জেনারেটরের জ্বালানি বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন পর চালু হওয়া ওটির কার্যক্রম নিয়মিত করা গেলে আলমডাঙ্গার সাধারণ মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব