সমবায়ের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের

সমবায়ের মাধ্যমে পুরুষ ও নারীকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি বলেছেন, শুধু পণ্য বিপণন নয়, বরং কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমবায় সমিতি গড়ে তুলে দলবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে এলে বাংলাদেশকে দ্রুত আত্মমর্যাদাশীল ও আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় কালেক্টরেট চত্বরে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমবায় কার্যালয়ের আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমবায়ের মূল শক্তি হচ্ছে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। নারী-পুরুষ সবাইকে সমবায়ের আওতায় এনে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
এর আগে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি কালেক্টরেট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে জাতীয় সমবায় দিবস ও সমবায় মেলার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, পুলিশ সুপার আবু সাইম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, জাতীয় সমবায় দিবসের অনুষ্ঠানের আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সভায় জেলার সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় খুন, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তবে জেলায় আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আত্মহত্যার মতো সামাজিক সংকট মোকাবিলায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি হতাশাগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে পরিবার, সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের প্রবণতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
ভোরের আকাশ/রই