আজ শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব

বাঙালি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী সার্বজনীন শ্যামা পূজা (কালী পূজা) ও দীপাবলী শক্তি ও শান্তির দেবী শ্যামা মায়ের আগমনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে এখন আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
পঞ্জিকামতে, রবিবার ২৩ কার্তিক (৭ নভেম্বর) আজ সন্ধ্যায় দীপাবলি ও মঙ্গল শিখা প্রজ্জ্বলন করে হিন্দু গৃহগুলো আলোকিত করে রাখা হবে। দিনভর উপবাসের পর রাতে অনুষ্ঠিত হবে শ্যামা মায়ের পূজা।
দুর্গাপূজার মতো কালীপূজায়ও গৃহে বা মণ্ডপে মৃণ্ময়ী প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করা হয়। মন্দিরে বা গৃহে প্রতিষ্ঠিত প্রস্তরময়ী বা ধাতুপ্রতিমাতেও কালীপূজা করা হয়। মধ্যরাতে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে গৃহস্থ বাড়িতে সাধারণত অতান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যমতে আদ্যাশক্তি কালীর রূপে কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। শ্যামাপূজাই দীপাবলি বা দিওয়ালি নামে পরিচিত।
হিন্দুর পুরান মতে, শ্রীরামচন্দ্র ১৪ বছর বনবাস থেকে ফিড়ে আসলে অযোধ্যাবাসী তাকে ঘিয়ের প্রদ্বিপ জ্বালিয়ে অভ্যর্থনা জানান। সেটি স্বরণ করে শ্যামা পুজার দিন এই দিনে দীপ জ্বালানো হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে অন্ধকার দৃর করতে এ প্রদীপ জ্বালানো হয়। তেমনি আমাদের অন্তরের জ্ঞানের প্রদীপজ্বালীয়ে অজ্ঞানকে দৃর করতে হবে।
শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উপজেলা সবক্রত্র শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিষ্ন পদ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক সরুপ কুমার।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের মাধ্যমে ভক্তের জীবনে কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটে দেবী শ্যামা বা কালীর। শ্যামা দেবী শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীক।’
ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, শ্যামা দেবী হলো শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীক। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ভক্তের জীবনে অবারিত কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে ধরাপৃষ্ঠে আগমন ঘটে দেবী শ্যামার। আজ জননীরূপে বাঙালীর জীবনে আবির্ভাব ঘটবে মহাশক্তি ত্রিনয়নী মা শ্যামার।
উপজেলার পূজা মণ্ডপগুলোতে শ্যামা পূজার আনন্দ-উৎসব চলছে দিনব্যাপী। দীপাবলী ও পূজার পাশাপাশি স্বর্গীয় মাতা-পিতা, আত্মীয় স্বজনের নামেও ঘরে ঘরে প্রদীপ প্রজ্বলন করবে হিন্দু সম্প্রদায়। রাতে শ্মশানে গিয়ে মোমবাতি-আগরবাতি জ্বালিয়ে স্বর্গীয় বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করবেন অনেকেই।
এদিকে শ্যামাপূজা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। উপজেলা অধিকাংশ পূজামণ্ডপে আনা হয়েছে নানা বৈচিত্র্য। বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছে পূজামণ্ডপগুলো।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শ্যামাপূজার সন্ধ্যায় মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে দীপাবলি উদযাপনের জন্য প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। মৃত স্বজনদের মঙ্গল কামনায় প্রদীপ জ্বালিয়ে পানিতে ভাসিয়ে দেয় অনেকেই। রাতে দেবীর পূজার পাশাপাশি অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, আরতি, ধর্মীয় সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে।
ভোরের আকাশ/রই