শিরোনাম
নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণসড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবেসৌদিতে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭ বাংলাদেশিডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৫মার্কিন ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো দূতাবাসসিপাহি-জনতার বিপ্লবে অপশক্তি পরাভূত হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীবিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দামজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীনয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণসড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবেসৌদিতে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭ বাংলাদেশিডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৫মার্কিন ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো দূতাবাসসিপাহি-জনতার বিপ্লবে অপশক্তি পরাভূত হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীবিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দামজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির গ্রুপিং ! ৭ নভেম্বর ঘিরে একই দিনে পৃথক দুই চিঠি

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা এবার প্রকাশ্য আলোচনায় এসেছে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং সিপাহী-জনতার বিপ্লব দিবস উপলক্ষে একই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পৃথক দুটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। চিঠি দুটিতে কর্মসূচির সময়, আয়োজনের ধরন, অতিথি তালিকা ও স্বাক্ষরকারীদের পরিচয়ে ভিন্নতা দেখা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাপ্ত দুটি চিঠি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগামী ৮ নভেম্বর (রোববার) দিবসটি উপলক্ষে দেবিদ্বারে আলোচনা সভা ও র‌্যালি আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। তবে দুটি চিঠিতে পৃথকভাবে কর্মসূচির সময় ও আয়োজকদের পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি চিঠিতে, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষরিত ৬ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের একটি আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৮ নভেম্বর দেবিদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন সংরক্ষিত আসন-৩০৩-এর সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, এফএম তারেক মুন্সী (সাবেক সদস্য সচিব, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি), ব্যারিস্টার রেজভিউল আহসান মুন্সী এবং সুফিয়া বেগম।

চিঠিতে সভাপতিত্ব করার কথা উল্লেখ রয়েছে মাজেদা আহসান মুন্সীর, যিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। কর্মসূচির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৩টা।

অন্যদিকে, ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির পৃথক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৮ নভেম্বর দুপুর ২টায় দেবিদ্বার নিউমার্কেটের রহমানিয়া সুপার মার্কেটের সামনে আলোচনা সভা ও র‌্যালি আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম সরকারের স্বাক্ষরিত ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান অতিথি হিসেবে দেবিদ্বার উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা এমপির উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।

এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসেম, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তোহিদুল ইসলাম বাবু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুফিয়া বেগমের।

একই সঙ্গে দেবিদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, শ্রমিক দলসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই দিবসে পৃথক দুই চিঠি, প্রশ্ন তুলেছে সাংগঠনিক ঐক্য নিয়ে। রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দুটি চিঠিতেই একই দিবস উপলক্ষে ৮ নভেম্বর কর্মসূচির কথা বলা হলেও একটিতে বিকেল ৩টায় র‌্যালি এবং অন্যটিতে দুপুর ২টায় আলোচনা সভা ও র‌্যালির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অতিথি ও আয়োজকদের তালিকাতেও পার্থক্য রয়েছে।

একটি চিঠিতে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ এবং অন্যটিতে আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম সরকারের স্বাক্ষর রয়েছে। ফলে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুন

ধামরাইয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একই দলের একই দিবসের কর্মসূচি নিয়ে পৃথক আমন্ত্রণপত্র ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়া তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে পৃথক চিঠি প্রকাশের পেছনে নেতৃত্বের বিরোধ, সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ভিন্নতা, নাকি সমন্বয়হীনতা কাজ করেছে, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এখন তৃণমূলের প্রশ্ন, দেবিদ্বার বিএনপির কর্মসূচি কি এক মঞ্চে হবে, নাকি পৃথক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিবসে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা শেষ পর্যন্ত কী উদ্যোগ নেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ভোরের আকাশ/ এনউব

শেয়ার করুন: